অনুমোদন ছাড়াই অন্য কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে চলছে মৎস ঔষধ তৈরি

সিয়াম সাদিক, উত্তরাঞ্চল ব্যুরো :

5 Min Read

কাগজে কলমে নেই কোনো অনুমোদন, অথচ কারখানা খুলে চলছে ওষুধ তৈরির কর্মকান্ড। এমনকি অন্য কোম্পানির নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে করা হচ্ছে প্যাকিং এর কাজ। মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি এভাবেই নওগাঁয় চালিয়ে যাচ্ছেন ভুয়া মৎস্য ওষুধ তৈরির কর্মযজ্ঞ। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন ছাড়াই অন্য কোম্পানির নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছেন ভেজাল মৎস ওষুধ তৈরির কাজ। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ভুয়া ওষুধ তৈরি হলেও নেই কোনো যথাযত পদক্ষেপ।

এদিকে এসব ভেজাল ওষুধ বিপুল পরিমাণে বাজারজাত করার আগেই দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের শাস্তি নিশ্চত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলসহ মৎস্য চাষিরা। নয়তো ভেজাল ওষুধের প্রভাবে মাছের নানা রকম রোগ বালাই থেকে শুরু করে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে মৎস চাষিদের।

তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় সংলগ্ন সামসুদ্দীনের নর্থ বেঙ্গল গ্রেইন ইন্ডাস্ট্রিজ লি: অটোরাইস মিলের কাছে মেইন রোড সংলগ্ন একটি গোডাউন ঘর ভাড়া নিয়ে মোস্তাফিজুর নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন প্রকার মাছের ওষুধ তৈরি করছেন। নেই কোনো সাইনবোর্ড, বাইরের গেটে তালা দিয়ে ভিতরে চলছে এসব অপকর্ম। বাইরে থেকে দেখলে পরিত্যক্ত গোডউন ছাড়া আর কিছু মনে হবেনা। সরেজমিনে গিয়ে এমনই চিত্র দেখাযায়।

সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোডাউন ঘরের ভেতর শিশুসহ বেশ কয়েকজন কন্টিনার, বস্তার প্যাকেট থেকে ভিন্ন মেডিসিনের সংমিশ্রন তৈরি করছেন। গ্যালাক্সো ক্লিন, গ্যালাক্সো ফাস্ট, গ্যালাক্সো অ্যাকুয়া, গ্যালাক্সো নিল, গ্যালাক্সো গ্রোথসহ নানান পন্যর মোড়ক ও খালি সাদা বোতল রয়েছে। বড়বড় নীল রঙের কন্টিনার ও বিভিন্ন মেডিসিনের বস্তা থেকে ড্রামে ঢালা হচ্ছে এসব মেডিসিন তারপর মিশ্রন ভালোভাবে গুলিয়ে কাকের সাহায্যে ছোট ছোট বোতলে ঢেলে লেভেল লাগিয়ে তা বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

বোতলের গায়ে গ্যালাক্সো এগ্রোভেট লি. ঢাকা, বাংলাদেশ কোম্পানির লেভেলিং করে বাজারজাত করছেন তারা। অথচ এই কোম্পানির সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন গ্যালাক্সো এগ্রোভেট।

কোনো কেমিস্ট ছাড়াই অনভিজ্ঞ শ্রমিক দ্বারাই তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার ভেজাল মাছের ওষুধ। বাংলাদেশে রি-প্যাকিং এর অনুমোদন না থাকলেও তারা বড় বড় কন্টিনার থেকে ছোট ছোট বোতলে দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে রি-প্যাকিং এর কাজ।

সেখানে কর্মরত বেশ কয়েক জনের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা এ বিষয়ে মুখ খোলেনি কেউ।

অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন- রাহাত কর্পোরেশন নামে আমার ডিপো অফিসের অনুমোদন নেয়া আছে। এখানে কোন কিছু তৈরি হয়না, আমি চায়না থেকে মালামাল নিয়ে আসি। এবং ছেড়া ফাঁটা মাল গুলো ঠিকঠাক করি এই।

অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন- মহাদেবপুর মৎস অফিস থেকে অনুমোদন নিয়েছি। আমার সব কাগজপত্র আছে। তবে একসময় তিনি মন্তব্য করবে না বলে জানান।

- Advertisement -

মহাদেবপুর মৎস অফিসে খোঁজ নিয়ে জানাযায়- প্রায় মাস খানেক আগে তিনি মহাদেবপুর উপজেলার ধনজইল বাজারে “রাহাত কর্পোরেশন” নামে মাছের ঔষধ আমদানি-রপ্তানি করার জন্য আবেদন করেছেন। যার কোন অনুমোদন দেয়া হয়নি। আবেদনটি এখনো যাচাই বাচাই চলছে।

মহাদেবপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শিল্পী রায় বলেন- তিনি মাছের খাদ্যের কাঁচামাল আমদানির জন্য আবেদন করেছেন। তাকে কোনো অনুমোদন তো দেয়া হয়নি, যাচাই চলছে। আর ধনজইল বাজারের ঠিকানা দিয়ে নওগাঁ সদরের মাঝে গোডাউন এটা তো প্রশ্নই আসেনা। তাছাড়া আবেদনে এক আর প্রোডাক্ট করছে আরেক এটা তো আরেকটা প্রতারণা।

তিনি আরও বলেন- মাছের মেডিসিন রি-প্যাকিং করাই যাবেনা। তাছাড়া প্রতারণা করে অন্য কোম্পানির নাম, মোড়ক ব্যাবহার করা এটা তো বিরাট অপরাধ, এটা তিনি অন্যায় ভাবে করছেন, আমরা বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

- Advertisement -

গ্যালাক্সো এগ্রোভেট লি: এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাসিম আহম্মেদ বলেন- নওগাঁয় আমাদের কোন শাখা নেই। আমাদের ফ্যাক্টরি ঢাকাতে। এবং রাজশাহীতে আমাদের অফিস রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের কোথাও কোন অফিস বা ফ্যাক্টরি নেই আমাদের।

তিনি আরও বলেন- আপনাদের মাধ্যমে জানার পর আমি বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়েছি। আব্দুর রহিম নামে আমাদের কোম্পানির একজন কর্মচারি আছে, তিনি মহাদেবপুর উপজেলার সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। আব্দুর রহিম এবং মোস্তাফিজুর মিলে আমার কোম্পানির প্রোডাক্টের নাম-ঠিকানা হুবহু ব্যবহার করে এসব নকল ঔষধ রি-প্যাকিং করে বাজারজাত করছে।
এতে করে আমাদের কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিষয়টি জানার পর আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের উদ্দ্যোগ গ্রহন করেছি।

নওগাঁ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস আলী বলেন, আমরা মাছের ঔষুধ তৈরির কোন অনুমোদ দিইনা। আমাদের দপ্তর থেকে কেউ যদি মাছের খাদ্যের কাঁচামাল আমদানি করতে চায় সেটার অনুমোদন দেই। ঔষুধ তৈরির তো প্রশ্নই আসেনা।

তিনি আরও বলেন- অন্য কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত এটা তো মহা অপরাধ। আমরা বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *