আন্দোলনেও বদল নেই: নেপালে যুব নেতৃত্বের ক্রান্তিকাল

By মনিরুল ইসলাম :

3 Min Read

নেপালের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে যুব নেতৃত্বের ঘাটতি ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার নিচ্ছে। দেশের জনসংখ্যার ৪২.৫ শতাংশ যুব, তবু পার্লামেন্ট, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোতে তাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নেই। পুরনো নেতা নেত্রীদের আধিপত্যের কারণে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

নেপালের জাতীয় যুব নীতি ২০১৫ অনুযায়ী, ১৬–৪০ বছর বয়সী লোককে যুব হিসেবে গণ্য করা হয়। নেপালের মোট জনসংখ্যা ২৯.১৬ মিলিয়ন, যার মধ্যে ১২.৪১ মিলিয়ন যুব। তবে পার্লামেন্ট ও সংবিধান অনুযায়ী ভোটার এবং প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বয়স সীমাবদ্ধতার কারণে যুবদের সুযোগ সীমিত।

উদাহরণস্বরূপ, ঘরোয়া নির্বাচনে বয়স ন্যূনতম ২১, কিন্তু প্রাদেশিক বা ফেডারেল নির্বাচনে ন্যূনতম বয়স ২৫। ঘটনাচক্রে, অব্যাহত হতাশার প্রতিফলন ২০২৫ এর জেন-জি আন্দোলনে দেখা গেছে।

আন্দোলনের প্রভাব হিসেবে সংসদ বিলুপ্ত হয়েছে এবং নতুন নির্বাচনের ঘোষণা এসেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, বিলুপ্ত সংসদের ২৭৫ আসনের মধ্যে কেবল ৩০ জন এমপি ৪০ বছরের নিচে ছিলেন। সিপিএন-ইউএমএল, কংগ্রেস ও মৌলবাদী পার্টিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ৬০–৮০ বছর বয়সীদের দখলে।

যেমন, কংগ্রেস সভাপতি শের বাহাদুর ডেউবা (৮০), সিপিএন-ইউএমএল চেয়ারম্যান কে পি শর্মা ওলি (৭৩) ও মৌলবাদী নেতা পুষ্প কামল দাহাল (৭০)।

যুবকর্মী ও আইনজীবী অঞ্জলিকা সিনহা বলেন, দুর্নীতি কেবল অর্থের বিষয় নয়, এটি ক্ষমতার লোভও। পুরনো নেতারা নতুন ধারণার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।

প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার ভোজরাজ পোখরেল সতর্ক করেছেন, যদি সিনিয়র নেতারা পদ ছাড়তে অস্বীকার করেন, তবে যুবদের পার্লামেন্টে অবস্থান প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে। তিনি মনে করান, বয়স ও মেয়াদ সীমার নিয়ম আইনগতভাবে প্রয়োগ করা দরকার। কেউ ৬৫ বছরের বেশি হলে সংসদে প্রার্থী হওয়ার অধিকার থাকা উচিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যথাযথ বয়স সীমা আর বিধিনিষেধ প্রয়োগ করলে যুব নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি হবে। তবে, সিনিয়র রাজনীতিবিদদের অভিজ্ঞতা এবং দেশের জন্য তাদের অবদানও বিবেচনা করতে হবে।

- Advertisement -

নিরাশি থামি যুব অংশগ্রহণ নিয়ে গবেষণায় যুক্ত, তিনি বলেন, রাজনীতি দেশকে গড়ে তোলে। বাধা দূর করে যুবদের সুযোগ ও উৎসাহ দেওয়া সময়ের দাবি।

নেপালের রাজনীতি বর্তমানে নতুন প্রজন্মের জন্য সংকীর্ণ। জেন – জি আন্দোলনের প্রভাব সত্ত্বেও, সিনিয়র নেতা–নেত্রীদের অব্যাহত আধিপত্য পার্লামেন্টে যুব প্রতিনিধিত্বের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আইনগত সংস্কার ও রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিয়মাবলী জরুরি।

- Advertisement -

মূল লেখা : রাজেশ মিশ্রা, দ্য কাঠমুন্ড পোস্ট।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *