কবি আমজাদ সুজনের জন্ম জামালপুর জেলার ইসলামপুরে। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি লিটনম্যাগের সম্পাদনা ও সাংবাদিকতায় সক্রিয় ছিলেন। চলচ্চিত্রকেও নিজের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ায় পড়াশোনা করেছেন এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মজীবনও উপভোগ করেছেন। পরে শহরের জীবন ছাড়িয়ে জন্মস্থানেই স্থায়ী হন। নিজেকে তিনি ‘শূন্য দশকের কবি’ হিসেবে অভিহিত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ২০১০ সালে তাঁর প্রথম কবিতার বই ‘দৃশ্য শিকারের বন্দুক’ প্রকাশিত হয়।
আমজাদ সুজনের পাঁচটি কবিতা
নকল এবাদত
কী হয়? মাতাল হলে! মাদকের কী গুণ?
হাপরের প্রবল চাপে আগুন
লাল করে দেয় লোহা;
কামারের দুই হাতুরি ঠাপে
লোহার গরম শরীর
ঠাপে ঠাপে ধারালো
অস্ত্র হবার সম্ভাবণায় তীক্ষè হয়ে ওঠে।
যেকোন অঙ্গ থেকেই কাঠ কেটে দিতে পারে শাখের করাত।
মানুষের অত ধার নাই আর
নিজ নিজ ছুরি হাতে মানুষ
টুকরো টুকরো খন্ড করেছে
মানব কামারশালা
নকল সম্পর্ক
তোমার জন্মদিন এলে আমি যাই মরে
আমার জন্মের সময় মরে যাও তুমি
জন্ম-মৃত্যুর এমন যোগাযোগে
পরস্পরের দেখা যায় না
এপার থেকে ওপার।
আজন্মের সাথে আমাদের আমৃত্যুর হবে দেখা
প্যারাডাইসের ঝুলন্ত সেতু ঘিরে দোদুল্য শিশুপার্ক
হাজার বছরে বছরে ধীরে ধীরে
জন্ম- মৃত্যুর ব্যবধান একদিন যাবে কমে
প্রভাবে আমার সমুদ্রে একদিন ঘটে যাবে তোমার জোয়ারভাটা
অনন্তকাল বৃষ্টি হবার পর
বসবাসযোগ্য হয় তখন পৃথিবী।
হাজার হাজার বছরে
ধীরে ধীরে
একদিন আমাদের শরীর থেকে
আমাদের ছায়া খসে খসে
আমাদের মহাকাশে আমাদের দুই কক্ষপথ
আমরা ছিলাম জোড়া ছায়াপথ।
নকল শরীর
টিপে টিপে বেশ তো দেখছি
সবই নরম, কখনো কখনো নরম খুব বেশি
দেখলাম খুব বেশি কঠিন হয় না শরীর ।
শরীরে ভেতর কেবল বিভিন্ন ইস্পাত।
প্রত্যেক লোমের গোড়ায় কূপ
প্রত্যেকের বুকের মধ্যে ধুপছায়া
প্রত্যেকের বুকের উপর পতিত পাহাড়-পর্বত
নদ-নদী-ঝরণা-মালভূমি, নকল বন-জঙ্গল।
প্রত্যেক শরীর যেন প্রত্যেকের মহাদেশ ঘিরে
উথাল-পাতাল এক একক মহাসাগর।
মানুষের ভিতর বাস করে এক একটি বিলুপ্ত নীলতিমি।
গভীরে গভীরে গভীর জলাশয় থাকে শরীরজুড়ে
কখন কোথায় কীভাবে সমুদ্র তৈরি হয় শরীরে
রক্তে কান পাতলে পাওয়া যায় তার ঢেউয়ের গর্জন
লোমকূপে খুব সহজে যোগাযোগ রাখে দৈহিক আবহাওয়া
যাতে খুব সহজে ধরা না পড়ে শরীরের তথ্য-প্রযুক্তি।
যদিও সাবধানতার বশে ঢেকে রাখা হয় শরীর
তবু খুব সন্তর্পণে খুলে দিতে হয় শরীর
নকল গুঞ্জন
তুমুল ভেপু বাজিয়ে বহু মৌমাছিদের দলবল
ঢুকে পড়ে মদ্যপানরত নারীপুরুষের তীব্র গুঞ্জনে
খুব মনোযোগ দিয়ে মৌচাকের আশাশেপাশে দাঁড়ালে
এখনও শোনা যায়
এল-কোহল-এল-কোহল-গুঞ্জন
শত ভয় ভুলে এখনও ভালুক
মৌচাক-এ আসে মধু খেতে
নকল বিজ্ঞান
ক্রমাগত চাঁদে শরীরের ওজন যাচ্ছে কমে
ক্রমাগত শরীর দোদুল্য মহাকাশে
যেন শরীর ভাসছে কোন ভাসমান মদের আস্তানায়
যেন অযুক্তির বিজ্ঞান কাতর হয়েছে ক্ষুধায়
যেন শরীর বেঁচে আছে মধ্যাকর্ষণ খেয়ে
