গোপালগঞ্জ বিআরটিএ অফিস ঘিরে অভিযোগের শেষ নেই। চলতি বছরের ৭ মে নাম-পরিচয়সহ নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হলেও, তার সত্যতা মিললেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সেই সুযোগে অফিসের সহকারী লিখন শেখ গড়ে তুলেছেন ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম নেটওয়ার্ক। চাকরির প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকের সঙ্গে মিলে গোপালগঞ্জ থেকে কুয়াকাটায় ইয়াবা সরবরাহের মূলহোতায় পরিণত হয়েছেন এমন প্রমাণও মিলেছে নিউজনেক্সট অনুসন্ধানে।
এমনকি লিখন শেখের ইয়াবা গ্রহনের একাধিক ভিডিও সংরক্ষিত আছে প্রতিবেদকের হাতে।

গোপালগঞ্জ বিআরটিএ অফিসের অভ্যন্তরীণ ভাগবাটোয়ারা নিয়ন্ত্রণ করেন অফিস সহকারী লিখন এমন অভিযোগ বহুদিনের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মোটরযান পরিদর্শক বলেন, লিখনের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ থাকলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তিনি আরও জানান, একাধিক বিয়ে, বিলাসবহুল জীবনযাপন, খুলনা ও নড়াইলে জমি-বাড়ি কেনা, আর প্রায় প্রতি মাসে প্রমোদভ্রমণ এসব একজন অফিস সহকারীর বেতনের আয় দিয়ে সম্ভব নয়। অথচ কেউ প্রশ্ন তুলছে না। উল্টো বড় কর্তারা নিজেদের ভাগ নিশ্চিত করতে লিখনকেই ব্যবহার করছেন।
কথিত আছে, গোপালগঞ্জ বিআরটিএ অফিসের সব সেকশনের ঘুষের দেনদরবার ও ভাগবণ্টনের মূল নিয়ন্ত্রক অফিস সহকারী লিখন শেখ। বিশেষ করে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান, ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন এবং যানবাহন নিবন্ধন এই তিন খাতের ঘুষ লেনদেন তার মাধ্যমেই হয়। লিখনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি দালাল সিন্ডিকেটও রয়েছে; এর মধ্যে কবির ও সুজন নামের দুজন দালাল সবচেয়ে সক্রিয় বলে জানা গেছে।
এমনকি সর্বশেষ অভিযানে দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান লিখন শেখের বিষয়ে গণমাধ্যমে বলেছিলেন, তার বাড়ি নড়াইল, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি পরিবারসহ খুলনায় থাকেন, তিনি প্রতিদিন এখান থেকে যাতায়েত করেন। তার খুলনায় বাড়ি রয়েছে, নড়াইলে প্রচুর জমি কেনা রয়েছে, গাড়ি আছে এসব তথ্য আমরা পেয়েছি। একজন ছোট কর্মচারী হয়েও কীভাবে খুলনার মতো বড় শহরে থাকেন এবং খুলনায় প্রতিদিন যাতায়েত করেন। তার যে অর্থিক সামর্থ্য তার সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়।
ইয়াবা সেবনের ভিডিও, ব্যবসা ও বিআরটিএ সিণ্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লিখন শেখকে প্রশ্ন করলে বাবা অসুস্থ বল্যে ফোন কেটে দেন তাঁর দুই তিন পরে তিনি আবার নিজে কল করে প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
এমন কি বারবার ফোন করেও লিখন শেখের সিনিয়র কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
