বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ২নং হাতরা ইউনিয়ন পরিষদের নেই নিজস্ব ভবন। ভাড়া করা দোকানঘরে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে সেবা নিতে আসা মানুষকে পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
উপজেলার হাতরা ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ২২ হাজার ৯৯৭ জন। জেলার মোট ৮৭টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে এটিই একমাত্র, যার স্থায়ী ভবন নেই। চেয়ারম্যান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অফিসের ঠিকানাও বদলে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথি হারানোর ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি সেবা পেতেও ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাতরা বাজারের একটি ভাড়া দোকানেই চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। সেখানেই গ্রাম আদালতসহ অন্যান্য দাপ্তরিক কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তারাও কোনোমতে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব কিংবা ওয়ারিশ সনদ নিতে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় সার্ভার সমস্যার কারণে দিনের পর দিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা রহমতুল্লাহ বাড়ি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ২০ বছর ধরে ইউনিয়নের ৬৪ শতাংশ জমিতে একটি পরিত্যক্ত ভবন পড়ে আছে। অথচ জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি এখনও ভাড়া দোকানে চলছে—যা অত্যন্ত লজ্জাকর।”
ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মামুনুর রশিদ জানান, চেয়ারম্যান ও সচিবের জন্য আলাদা কোনো কক্ষ নেই। ডিজিটাল সেন্টারের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা নেই। এতে জনসাধারণ মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলী সুজা বলেন, “হাতরা ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন অনুমোদন হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।”
