বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা বাড়িয়ে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। এতদিন শিক্ষকরা ২৫ শতাংশ হারে এই ভাতা পেয়ে আসছিলেন। সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে, যা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
তবে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তারা আগের মতোই মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন। এ সিদ্ধান্তে শিক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও কর্মচারীরা তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন এবং আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।
২০০৪ সাল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ২৫ শতাংশ হারে উৎসব ভাতা পেয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ সময় পর এই হার দ্বিগুণ করা হলেও কর্মচারীদের দাবি উপেক্ষিত থাকায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগের উপসচিব মোসা. শরীফুন্নেসা জানিয়েছেন, “শিক্ষকদের ভাতা ৫০ শতাংশে বাড়ানো হয়েছে, কর্মচারীদের ভাতা পূর্বের হারেই রয়েছে।”
গত ২১ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল যাতে শিক্ষক ও কর্মচারী উভয়েরই উৎসব ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবে শিক্ষকদের ভাতা ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ এবং কর্মচারীদের ভাতা ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২২৯ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ গত ৭ মে এ বরাদ্দ পুনঃউপযোজনের অনুমোদন দেয়, তবে চূড়ান্ত আদেশে শুধু শিক্ষকদের ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসচিব শরীফুন্নেসা বলেন, “আমি কেবল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। কর্মচারীদের ভাতা কেন বাড়েনি, সে বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে কিছু বলতে পারছি না।” শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মুহাম্মদ আজাদ খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন আজীজী ভাতা বৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের ভাতা বাড়ানো হলেও কর্মচারীদের উপেক্ষা করা হয়েছে, যা হতাশাজনক।” তিনি আগামী বাজেট থেকে সকল শিক্ষক ও কর্মচারীর জন্য শতভাগ উৎসব ভাতা চালুর দাবি জানান।
এদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান ওরফে আদনান হাবিব বলেছেন, “ঈদের আগে কর্মচারীদের উৎসব ভাতা না বাড়ালে কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলনের পথে যেতে হবে।” তিনি শতভাগ উৎসব ভাতা, সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা চালু এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারিকরণের দাবি জানান।
গত ৫ মার্চ শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরদিন ৬ মার্চ শিক্ষকরা ২২ দিনের কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন। তবে চূড়ান্ত আদেশে কর্মচারীদের বাদ পড়ায় আবারও ক্ষোভ দানা বাঁধছে।
