বন নয় যেন মরুভূমি কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন শিলখালী রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্বিচারে চলছে গাছ নিধন ও বনভূমি দখল। সেই সাথে প্রকাশ্যে পাচারের ঘটনা ঘটছে । শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালামকে টাকা দিয়ে মাদারট্রি কেটে নিয়ে যাচ্ছে গাছ পাচারকারীরা।
কালামকে টাকা দিলে বনভূমিতে সব জায়েজ হয়ে যায়। কালামের পছন্দমত টাকা না দিলে হয়রানি হতে হয়,টাকা দিলে যা ইচ্ছা করা যায়। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম হেডম্যানদের দিয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নামে লাখ লাখ টাকা মাসোহারা উত্তোলন করাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালামের তদারকিতে হেডম্যানদের দিয়ে ভিলেজার, বনভূমিতে বসবাসকারী,ফার্নিচার দোকানি, বোট মালিক, পাহাড় দখলদার থেকে এসব চাঁদাবাজ উত্তোলন করে।
শিলখালী রেঞ্জে প্রায় মানুষ বনের জমিতে বসবাস করে আসছে শত বছর ধরে। ঘরবাড়ী মেরামত করলে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে দিতে হয় মোটা অংকের টাকা। হাজমপাড়া পাহাড়ে হেল্প প্রজেক্টের বনায়ন না করে পাহাড় বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে কালামের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সুফল বনায়ন হরিলুট করেছে আবুল কালাম। স্থানে স্থানে গেছে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ।এছাড়াও বনভুমি বিক্রি ও পাহাড় কেটে পাকা দালান নির্মাণে সহযোগীতা করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হয়েছে খোদ রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সবচেয়ে বেশি বৃক্ষ নিধন হচ্ছে শিলখালী রেঞ্জের জাহাজপুরা,মাথাভাঙা, কচ্ছপিয়া, মারিছবনিয়া, নোয়াখালী পাড়ার সংরক্ষিত বনাঞ্চলে। রেঞ্জের আওতাধীন এলাকাগুলোতে নির্বিচারে পাহাড় কাটা,বনভুমি বিক্রি ও মূল্যবান গাছ কেটে পাচারের ঘটনা রীতিমতো পরিবেশবাদী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
এদিকে, রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালামের যোগসাজশে দিন-রাত গাছ কাটা এবং কাঠ পাচার অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্টদের রহস্যজনক নিরবতা পালন করছে বলে অভিযোগ।রীতিমত বন কর্মকর্তার নিরব ভুমিকার কারণে কাঠ চোরেরা আস্কারা পেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে গাছ নিধনে মেতে উঠেছে। জানা গেছে, শিলখালী রেঞ্জে সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে।এই রেঞ্জে শতবর্ষীয় মাদার ট্রি গর্জন,সেগুন,করই,গামারী,জারুল, জাম,মেহগনী,তেলসুর ও সিভিটসহ বিভিন্ন প্রজাতির মুল্যবান গাছ দিনদিন নি:শেষ হয়ে পড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় কাঠ চোরাকারবারীরা দিনে-রাতে প্রতিযোগিতামুলক ভাবে মুল্যবান গাছ নিধন চালালেও রেঞ্জ কর্মকর্তা নিশ্চুপ।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শিলখালী রেঞ্জের বনাঞ্চল থেকে নির্বিচারে নিধন করা মুল্যবান গাছগুলো ডাম্পার (মিনি ট্রাক) যোগে পাচার করে যাচ্ছে।এতে করে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান বৃক্ষ দিনদিন শুন্য হয়ে ন্যাড়া ভুমিতে পরিণত হচ্ছে। চোরাই কাঠ পাচারকারী চক্র বনের মূল্যবান গাছ কেটে অন্যত্র পাচার করে দিচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম এ ব্যাপারে নিরব ভুমিকা পালন করছেন।বনের গাছ চুরি অব্যাহত থাকায় সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দিনদিন।
ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে ‘সাসটেইনেবল ফরেস্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড (সুফল) প্রজেক্ট’ এর আওতায় সরকারের গৃহিত নতুন বনায়ন কর্মসুচী এই শিলখালী রেঞ্জে ভেস্তে যেতে বসেছে।খোদ শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালামের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে সুফল প্রকল্পের অধীনে টেকসই বনায়ন বিকল্প জীবিকায়ন প্রকল্পের সৃজিত বনায়ন বিফলে চলে গেছে। সুফল বনায়নে আগাছা পরিস্কারের কথা থাকলেও তা করা হয়নি।
সুফল বনায়নের বেশির ভাগ বিভিন্ন প্রজাতির স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী চারা গাছ মারা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বনাঞ্চলের মুল্যবান গাছ কেটে পাচার সহজতর এবং দ্রুত অন্যত্র পাচারের জন্য সংরক্ষিত বনের ভেতর গাছ ও পাহাড় কাটছে কাঠ পাচারকারী ও বনভূমি দখলদাররা। শিলখালী, জাহাজপুরা,মাথাভাঙা, কচ্ছপিয়া,নোয়াখালীপাড়া কাঠ চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের সাথে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে কাঠ ও পাহাড়ি পাথর পাচার করে পকেট ভারি করছে রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম। নির্বিঘ্নে ডাম্পার যোগে দিনে ও রাতে কাঠ পাচার করা হচ্ছে বনের মূল্যবান কাঠ। অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে দালান নির্মাণে সহযোগীতাও করেছে রেঞ্জ কর্মকর্তা।ওই এলাকায় এধরনে প্রতিটি অবৈধ কাঁচা পাকা দালান থেকে তিনি লাখ লাখ টাকা অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে বলে অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বনজায়গীরদার (ভিলেজার)জানান,চকিদারপাড়া,শিলখালী,জাহাজপরা,মাথাভাঙা, মারিছবনিয়া, কচ্ছপিয়া, নোয়াখালীপাড়াসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দিনে ও রাতে সেগুন, গর্জন ও সিভিট গাছ কাটা যাচ্ছে।আরও অভিযোগ, নিধন হওয়া চোরাই কাঠ ভর্তি গাড়িগুলো শিলখালী রেঞ্জ অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে পাচার করা হচ্ছে।
এমনকি মুল্যবান গাছ ছাড়াও বনাঞ্চল থেকে লাকড়ী যাচ্ছে টেকনাফ এলাকার বিভিন্ন ইট ভাটায়। স্থানীয়রা আরও জানান, শিলখালী রেঞ্জে প্রতিনিয়ত গাছ নিধন করেছে কাঠ চোরেরা। তাদের দাবী সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তারা এসব এলাকা পরিদর্শন করলে শতশত সদ্যকাটা গাছের মুথা পাওয়া যাবে।রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম মাঝে মধ্যে টহলে গিয়ে গাছ নিধন দৃশ্য দেখেও এড়িয়ে যান।
কারণ হিসেবে তারা বলেন, প্রতিটি নিধন হওয়া গাছের টাকা পান রেঞ্জ কর্মকর্তা।অথচ উক্ত বনাঞ্চলে এসব গাছ বড় করতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।গাছ বড় করতে লেগেছে দীর্ঘ সময়।অথচ বনের রক্ষক রেঞ্জ কর্মকর্তা কাঠ চোরদের সাথে আতাত করে এসব গাছ অতিঅল্প সময়ে মোটা টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছে।কাঠ চোরকারবারীদের সাথে তার রয়েছে দহরম মহরম সম্পর্ক।
ফলে রেঞ্জ কর্মকর্তা যোগসাজসে পাচার করে দিচ্ছে বনের মূল্যবান কাঠ।এব্যাপারে শিলখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বিষয় অস্বীকার করেন। এবিষয়ে জানতে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে কল দিয়েও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
