কক্সবাজারের রাজারকুল দাড়িয়ারদীঘি বনবিটে যেন নতুন গ্রাম গড়ে উঠেছে। চারদিকে পাহাড়ি টিলা ও সবুজ গাছের ভেতরে একের পর এক টিনের ঘর, আধাপাকা ভবন আর দালান। অথচ এ জমি বনবিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি। আইন অনুযায়ী যেখানে কেবল সামাজিক বনায়ন ছাড়া অন্য কিছু করার বিধান নেই, সেখানে আজ কোটি টাকার স্থাপনা দাঁড়িয়ে গেছে।
টাকা দিলে সবই সম্ভব
স্থানীয়দের অভিযোগ, দাড়িয়ারদীঘি বিট কর্মকর্তা ইসরায়েল হোসেনকে মোটা অঙ্কের টাকা দিলেই জমি দখল থেকে শুরু করে স্থায়ী দালান নির্মাণ পর্যন্ত সব কিছুই “জায়েজ” হয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, থোয়াইঙ্গা কাটা এলাকায় এক প্রবাসী ব্যক্তি দোতলা ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণ করছেন। অভিযোগ আছে, ওই নির্মাণের অনুমতি দিতে বিট কর্মকর্তাকে তিনি দিয়েছেন দুই লাখ টাকা।
বনভূমি বেদখলের কৌশল
স্থানীয় এক মহিলা যিনি নির্মাণাধীন দালানের মালিক, খোলাখুলিই স্বীকার করলেন— “আমি বনবিভাগকে ম্যানেজ করেই বাড়ি করছি।” এভাবেই সামাজিক বনায়নের নামে জমি দখল করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল সেখানে স্থায়ী স্থাপনা গড়ে তুলছে। আর বনবিভাগের কর্মকর্তাদের আঁতাত ছাড়া এটি সম্ভব নয় বলেই মনে করেন এলাকাবাসী।
কর্মকর্তার ভূমিকা
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাড়িয়ারদীঘি বিট কর্মকর্তা ইসরায়েল হোসেন বলেন, “এসব বিষয়ে ডিএফও স্যার জানেন। তাকে জানিয়েই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।” তবে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে একাধিকবার কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বন উজাড়ের শঙ্কা
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যদি এভাবে বনভূমি দখল ও দালান নির্মাণ চলতে থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই উজাড় হয়ে যাবে দাড়িয়ারদীঘির শত শত একর বনভূমি। সামাজিক বনায়নের নামে সরকারি জমি হাতিয়ে নেওয়ার এ প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে বন বিভাগ শুধু বন হারাবে না, পরিবেশও মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, এর আগেও বিট কর্মকর্তা ইসরায়েল হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল, বনবিভাগের উটলড বাগানও টাকার বিনিময়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি বনভূমির পাদদেশে খতিয়ানভুক্ত জমিতে বৈধভাবে বাড়ি নির্মাণ করতে চাইলে নানা অজুহাত দেখিয়ে জমির প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকেও তিনি উৎকোচ দাবি করেছিলেন। তবে অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে।
