কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন রাজারকুল ও উখিয়া সদর রেঞ্জে চলছে বনভূমি দখল ও পাহাড় কাটার মহোৎসব। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগ জানলেও রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে।
রাজারকুল রেঞ্জের দাড়িয়ারদীঘি ও থোয়াইঙ্গা কাটা বাজার এলাকায় প্রতিদিনই পাহাড় কেটে সমতল করা হচ্ছে। সেখানে তৈরি হচ্ছে বসতি ও পানের বরজ। কালো প্লাস্টিক ও বাঁশ দিয়ে আড়াল করে পাহাড় কাটার পর কৌশলে বরজ নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখল চলছে। একইভাবে দখলকৃত জমিতে পাকা দালান, দোকানপাট ও নানা স্থাপনা উঠছে। এমনকি পাহাড়ি মাটি ট্রাকে করে বিক্রি করা হচ্ছে—যার বড় অংশ যাচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, বন কর্মকর্তাদের মাসোহারা দিয়েই এসব কাজ চলছে। রাজারকুল ও উখিয়া সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান ও এটিএম আলী নেওয়াজের বিরুদ্ধে নির্লিপ্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই দখল প্রক্রিয়া চলছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, উখিয়ার বড়ইতলী মধুরছড়া এলাকার একটি মাদরাসার পাশের পাহাড় থেকে প্রকাশ্যে মাটি কেটে ট্রাকে ভরে নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের চোখের সামনেই এ কর্মকাণ্ড চললেও কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না।
এরই মধ্যে বন বিভাগীয় দুর্নীতির নানা তথ্য সামনে এসেছে। হেল্প প্রজেক্টে কোটি কোটি টাকার অনিয়ম, শ্রমিকদের পাওনা আটকে রাখা, এমনকি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিট কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগও উঠেছে এক রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
পাশাপাশি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মূল্যবান গাছ নির্বিচারে কেটে পাচার করা হচ্ছে। ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে, সরকার হারাচ্ছে বিপুল রাজস্ব। স্থানীয়রা বলছেন, ভূমিদস্যুদের সঙ্গে বন কর্মকর্তাদের আঁতাতের কারণেই দখল ও ধ্বংসযজ্ঞ আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে।
যদিও উখিয়া সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রাজারকুল রেঞ্জ কর্মকর্তা এটিএম আলী নেওয়াজ জানিয়েছেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন। তবে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নুরুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি।

