গত বছরের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শেষ দিকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ভয়াবহ হামলা হয়েছিল। সেই হামলায় নিহত হন ১৬ জন বন্দি, ছিনিয়ে নেওয়া হয় বিপুলসংখ্যক আসামি। কেটে গেছে এক বছর, তবে এখনো গ্রেফতার হয়নি ৭২৪ জন জেল পলাতক। তাদের মধ্যে আছেন বিডিআর বিদ্রোহ, বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা, জঙ্গি মামলার সাজাপ্রাপ্ত ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযুক্ত আসামি।
একইসঙ্গে এখনো উদ্ধার হয়নি কারাগার থেকে লুট হওয়া প্রায় সাড়ে সাত হাজার রাউন্ড গুলি ও ২৯টি আগ্নেয়াস্ত্র। এ ছাড়া কারাগারে হামলা ও আসামিদের পলায়নসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিরও কোনো সম্ভাবনা নেই।
পলাতক আসামিদের সংখ্যা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচটি কারাগার থেকে মোট ২,২৪৪ জন বন্দি পালিয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৬০ জন স্বেচ্ছায় ফেরত এসেছে, ৩৬৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি ৭২৪ জন এখনো পলাতক।
কারাগারভিত্তিক হিসাব—
কুষ্টিয়া জেলা কারাগার: ১০৫ জন পালায়, ফেরত ৫, গ্রেফতার ৮১, পলাতক ১৭।
নরসিংদী জেলা কারাগার: ৮৪৬ জন পালায়, ফেরত ৬৪৪, গ্রেফতার ৩৮, পলাতক ১৪২।
শেরপুর জেলা কারাগার: ৫১৮ জন পালায়, ফেরত কেউ না, গ্রেফতার ১৩৯, পলাতক ৩৭৮।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগার: ৫৯৬ জন পালায়, ফেরত ৫০৯, গ্রেফতার ৪৪, পলাতক ৪৩।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার: ২০২ জন পালায়, ফেরত কেউ না, গ্রেফতার ৬১, পলাতক ১৪১।
লুট হওয়া অস্ত্র ও গুলি
নরসিংদী ও শেরপুর কারাগার থেকে লুট হয়েছিল মোট ৯৪টি আগ্নেয়াস্ত্র। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৬৫টি, এখনো নিখোঁজ ২৯টি। অস্ত্রগুলোর মধ্যে ছিল—৩৩টি চাইনিজ রাইফেল, ৩৮টি বিডিএইচ, ২৩টি শটগান। গুলির সংখ্যা ছিল ৯,১৯০ রাউন্ড। উদ্ধার হয়েছে ১,৭১২ রাউন্ড। এখনো নিখোঁজ ৭,৪৭৮ রাউন্ড।
হতাহত ও মামলা
কারাগারে হামলায় ১৬ জন নিহত হয়েছিলেন—কাশিমপুরে ৬ জন, জামালপুরে ৭ জন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ২ জন ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ জন। এসব ঘটনায় মোট ছয়টি মামলা হয়। নরসিংদীতে দুটি, আর শেরপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও কাশিমপুর হাই সিকিউরিটিতে একটি করে।
তদন্তের জটিলতা
প্রিজন্স এআইজি জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, কারাগার হামলার সময় নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। ফলে পলাতক আসামিদের বিষয়ে সঠিক তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। আদালত বা থানায় থাকা নথির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে যেসব থানাও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেসব আসামির তথ্য আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, বেশির ভাগ পলাতকই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ধীরে ধীরে তাদের ধরপাকড় চলবে। মাঝে মাঝে কয়েকজন করে ধরা পড়লেও পুরোপুরি চার্জশিট দেওয়া যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশে আংশিক চার্জশিট দাখিলের সুযোগ থাকলেও এখনো তা কার্যকর হয়নি।
