ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় একটি স্কুলে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর বোমা হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন রেডক্রস কর্মী, এক সাংবাদিক এবং বেশ কয়েকজন শিশু। প্রাণ হারানো শিশুদের একজন গাজার ১১ বছর বয়সী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ইয়াকিন হাম্মাদ। সোমবার (২৫ মে) এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, ইসরায়েলি হামলায় ফাহমি আল-জারজাওয়ি স্কুল ভবনে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ ওই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ চাপা পড়ে আছেন।
টেলিগ্রামে দেওয়া হালনাগাদ পোস্টে সংস্থাটি জানায়, স্কুলটি থেকে অন্তত ১৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আরও ২১ জন আহত হয়েছেন। স্কুল ভবনের প্রায় অর্ধেক ধসে পড়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল রোববার একদিনেই অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা সূত্রগুলো।
এদিকে, ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রোববার স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে আয়োজিত এক বৈঠকে ইউরোপ ও আরব বিশ্বের ২০টি দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
গাজার সরকারি তথ্য অফিস জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে উপত্যকার ৭৭ শতাংশ এলাকা দখল করে নিয়েছে দখলদার বাহিনী।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বড় অংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে বারবার উদ্বেগ জানালেও, বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং প্রতিদিন নতুন করে বেসামরিক জনগণ, শিশুসহ নিরীহ মানুষের মৃত্যুতে রক্তাক্ত হচ্ছে গাজা উপত্যকা।
