কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলও) শাখা ঘুষ ও দুর্নীতির কারণে ভুক্তভোগীদের কাছে এখন দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল অগ্রসর হয় না। ফাইলের কাজ শুরুর আগে ঠিক করতে হয় ঘুষের অংক।
ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এটিএম আরিফের ঘুষের অংক মানতে রাজি না হলে, ফাইল গায়েব করা থেকে শুরু করে নানা হয়রানির শিকার হতে হয় জমির মালিকদের। তার নিয়োগ করা দালালচক্র—অফিস সহকারী ফাওয়াজ মোহাম্মদ রিমন, সাবেক সার্ভেয়ার বাকীরুল ইসলাম ও দালাল রনির মাধ্যমে কমিশন প্রদানের পরেই ক্ষতিপূরণের চেক পাওয়া সম্ভব বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ
জমির মালিকরা জানাচ্ছেন, মাসের পর মাস জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে ঘুরেও তারা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে গেলে অল্প সময়েই চেক পাওয়া যায়, তবে দিতে হয় প্রায় ৫০% কমিশন। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা কমিশন না দিলে তাদের ফাইল ছিঁড়ে ফেলা বা স্থায়ীভাবে আটকে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
মহেশখালীর ঝাপুয়া মৌজার একটি মামলার উদাহরণ টেনে ভুক্তভোগীরা জানান, ছৈয়দ আহমদের উত্তরাধিকারীরা ১.২০ একর জমির মালিক হলেও, প্রক্রিয়াগত নানা জটিলতার আড়ালে প্রতিপক্ষ মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে। এতে প্রকৃত মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং কর্মকর্তাদের দ্বিমুখী ঘুষ বাণিজ্যের প্রমাণ মিলে। খাইরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, অফিসের ভেতর থেকে শুরু করে বাইরে পর্যন্ত সর্বত্র দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য চলছে। প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নিত, তবে সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে রেহাই পেত। কিন্তু অজানা কারণে সবাই নীরব রয়েছে।
দালাল চক্র ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা
ভূমি অধিগ্রহণ অফিসের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় একাধিক দালাল চক্রের মাধ্যমে চলছে এই অনিয়ম। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না বলে অভিযোগ। এমনকি কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে সরকারি অর্থ লোপাট হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন জমির মালিকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলও অফিসে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, আরিফ ও বাকিরুল মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। তারা নানা অজুহাতে কাজ ঝুলিয়ে রাখে। পরে বাইরে অবস্থান করা সাইদুল ও সজল এসে টার্গেট করে জানায়—টাকা খরচ করলে কাজ দ্রুত করে দেওয়া হবে।
প্রশাসনের অবস্থান
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সার্ভেয়ার বাকীরুল ইসলাম ফাইল জমা দেওয়ার ঘটনা স্বীকার করলেও বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে যান। এলও কর্মকর্তা এটিএম আরিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমদকেও পাওয়া যায়নি।
তবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, “আমাকে সব তথ্য দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ অবস্থায় ভুক্তভোগী জমির মালিকরা এলও অফিসে চলমান অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

