ঘুষ ছাড়া কলম নড়ে না ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার

By পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

2 Min Read

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না, এমন অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কাজী মো. জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। সরকারি ফি’র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায়, দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারণা, এমনকি সরকারি খাল ও খাস জমির নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা জানান, অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর, হোল্ডিং অনুমোদন, মিউটেশন, এমপি ১৪৪-১৪৫ মামলার প্রতিবেদন গ্রহণসহ সব কাজেই ঘুষ বাধ্যতামূলক। অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তা রাতে অফিসে বসেই বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন করেন। সরকারি খাস জমির অভিযোগ তুলে মৎস্য চাষিদের কাছ থেকেও টাকা দাবি করা হয়। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে চলতি জুলাইয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগও দেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, যোগদানের পর থেকেই জাহিদুল ইসলাম “ঘুষ ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না” নীতি অনুসরণ করছেন। তার নিয়ন্ত্রিত দালাল চক্র ছাড়া কোনো ফাইল প্রক্রিয়া হয় না। গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, তার কক্ষে ভিড় জমেছে। অভিযোগ রয়েছে, দালালদের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ধারণ করলে নয়া দিগন্তের এক সাংবাদিকের ওপর চড়াও হন তিনি এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

কামরুল ইসলাম হিরু অভিযোগ করেছেন, তহশিলদার ও ইউএনও ঘের মালিকদের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেছেন এবং টাকা না দেওয়ায় মোবাইল কোর্ট চালিয়ে মাছের ঘের কেটে দেন। নজরুল ইসলাম জানান, মিউটেশনের জন্য সরকারি ফি ১,১৮০ টাকা হলেও তাকে ৮ হাজার টাকা দিতে বলা হয়। টাকা না দেওয়ায় দলিল বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। আব্দুর হাই মুন্সী বলেন, সরকারি খাল ইজারার নামে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে ভুয়া কাগজ ধরিয়ে দেন কর্মকর্তা। মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, দালালের মাধ্যমে জমির কেস নম্বর বাদ দিতে একরপ্রতি ৫ হাজার টাকা ও খাস খতিয়ানে নাম না তুলতে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন জাহিদুল। নুরজামাল মৃধা জানান, তার রেকর্ডি জমিকে খাস জমি দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়, টাকা না দেওয়ায় মোবাইল কোর্ট চালিয়ে ঘের কেটে দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাজী মো. জাহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *