চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ১৪৪ ধারা জারি

By নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

রোববার দুপুর ২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচজনের বেশি একত্রে চলাফেরা এবং কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র বা দেশীয় অস্ত্র বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ফতেপুর ইউনিয়নের চবি ২ নম্বর গেইট বাজারের পূর্ব সীমা থেকে পূর্ব দিকে রেলগেইট পর্যন্ত এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের শুরু

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২ নম্বর গেইট এলাকার একটি ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ঝগড়া থেকে উত্তেজনা শুরু হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, বাসায় ফেরার সময় দারোয়ান গেইট খুলতে দেরি করলে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নিরাপত্তারক্ষী তাকে গালাগাল করেন ও চড় মারেন। খবর পেয়ে তার সহপাঠীরা সেখানে গেলে গ্রামবাসী দারোয়ানের পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়।

দু’পক্ষ ইটপাটকেল ছোড়ে, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে। স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করায় সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়।

হতাহতের ঘটনা

সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি রয়েছেন, তবে সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন।

চবি চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. আবু তৈয়ব জানান, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন, এর মধ্যে ২১ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়।

- Advertisement -

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী

রাতভর সংঘর্ষ চলার পর ভোরে সেনাবাহিনী সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন স্বীকার করেন, পর্যাপ্ত পুলিশ না পাওয়ায় শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

রোববার সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। দুপুরে ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, এতে উপ-উপাচার্যসহ আরও অনেকে আহত হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীকে আঘাত করার দৃশ্য দেখা যায়।

- Advertisement -

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: সব পরীক্ষা স্থগিত, আহত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ১৪৪ ধারা জারি

By নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

রোববার দুপুর ২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচজনের বেশি একত্রে চলাফেরা এবং কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র বা দেশীয় অস্ত্র বহনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, ফতেপুর ইউনিয়নের চবি ২ নম্বর গেইট বাজারের পূর্ব সীমা থেকে পূর্ব দিকে রেলগেইট পর্যন্ত এলাকায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের শুরু

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ২ নম্বর গেইট এলাকার একটি ভবনের নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ঝগড়া থেকে উত্তেজনা শুরু হয়। ভুক্তভোগী ছাত্রী জানান, বাসায় ফেরার সময় দারোয়ান গেইট খুলতে দেরি করলে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নিরাপত্তারক্ষী তাকে গালাগাল করেন ও চড় মারেন। খবর পেয়ে তার সহপাঠীরা সেখানে গেলে গ্রামবাসী দারোয়ানের পক্ষ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হয়।

দু’পক্ষ ইটপাটকেল ছোড়ে, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে। স্থানীয়রা মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করায় সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়।

হতাহতের ঘটনা

সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও নিরাপত্তাকর্মীসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি রয়েছেন, তবে সবাই আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন।

চবি চিকিৎসা কেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসক ডা. আবু তৈয়ব জানান, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন, এর মধ্যে ২১ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়।

- Advertisement -

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী

রাতভর সংঘর্ষ চলার পর ভোরে সেনাবাহিনী সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন স্বীকার করেন, পর্যাপ্ত পুলিশ না পাওয়ায় শুরুতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।

রোববার সকাল থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে। দুপুরে ফের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, এতে উপ-উপাচার্যসহ আরও অনেকে আহত হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীকে আঘাত করার দৃশ্য দেখা যায়।

- Advertisement -

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ: সব পরীক্ষা স্থগিত, আহত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *