টানা ছয় দিনের ফ্লাইট বিশৃঙ্খলার পর ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের মোট ৬১০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স। একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ৩ হাজারের বেশি মালপত্র। রোববার সন্ধ্যায় ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্লাইট অপারেশন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। রোববার ৬৫০টি ফ্লাইট বাতিল হলেও ১,৬৫০টি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলেছে। প্রতিদিন গড়ে ২,৩০০টি ফ্লাইট পরিচালনাকারী ইন্ডিগো শুক্রবার মাত্র ৭০৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পেরেছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত টিকিট বাতিল ও রিবুকিং বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স জানান, বর্তমানে প্রায় ৭৫ শতাংশ ফ্লাইট সময়মতো চলতে পারছে। রিফান্ড ও পুনরায় বুকিংসহ যাত্রীসেবা দ্রুত সম্পন্ন করতে ‘সাপোর্ট সেল’ গঠন করা হয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের তথ্য আগেভাগে জানানোয় বিমানবন্দরে ভিড়ও কিছুটা কমেছে বলে জানান তিনি।
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ ইন্ডিগোকে শোকজ করেছে। তবে জবাব দেওয়ার জন্য সংস্থাটি বাড়তি সময় চেয়েছে।
ফ্লাইট বিপর্যয়ের নেপথ্যে ডিজিসিএর নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস বিধি কার্যকর হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিধি অনুযায়ী, পাইলট ও ক্রুদের সাপ্তাহিক ৪৮ ঘণ্টা বিশ্রাম এবং সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুটি নাইট ল্যান্ডিংয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়। আদালতের নির্দেশে বিধিটি দুই ধাপে কার্যকর হওয়ার পর ইন্ডিগো জনবল সংকটে পড়ে।
রাতের ফ্লাইট বেশি থাকায় নতুন বিধির সরাসরি চাপ পড়ে ইন্ডিগোর ওপর। প্রয়োজনীয় পাইলট ও ক্রু না থাকায় ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয় বিমানসংস্থাটি। পরিস্থিতির জন্য ক্ষমা চেয়ে ইন্ডিগো নিশ্চিত করেছে যে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
