জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আর কোনো একক ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য নেই। প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে হলে আসন বণ্টনও স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে। এমন প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ছয় বছর পর আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে।
নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২৮ পদ ও হল সংসদের ১৩ পদ মিলিয়ে মোট ৪১ পদে ভোট দেবেন শিক্ষার্থীরা। ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভিপি পদে ছাত্রদল সমর্থিত আবিদুল ইসলাম ও ছাত্রশিবির সমর্থিত আবু সাদিক কায়েমকে ঘিরেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। পাশাপাশি আলোচনায় আছেন স্বতন্ত্র উমামা ফাতেমা, শামীম হোসেন এবং বাগছাস সমর্থিত আব্দুল কাদের। জিএস পদে ছাত্রদলের শেখ তানভীর বারী হামিম, শিবির সমর্থিত এসএম ফরহাদ এবং বাগছাসের আবু বাকের মজুমদারের মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে। এছাড়া ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’-এর মেঘমল্লার বসুও চমক দেখাতে পারেন।
ভোটকে কেন্দ্র করে পুরো ক্যাম্পাস এখন নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি প্রবেশপথে পুলিশ, প্রক্টরিয়াল টিম, বিএনসিসি ও গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান করছেন। ক্যাম্পাসে অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগে প্রতিটি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স প্রদর্শন ও সিলগালা করা হবে এবং গণনা শেষে ফলাফল সরাসরি এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনই আমাদের লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে ভোট দিতে আসুক।” প্রথমবার ভোট দেবে এমন শিক্ষার্থীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সবচেয়ে বেশি। তারা বলছে, এবার এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান যারা সাধারণ শিক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষা করবে।
