জাপানে পোশাক রপ্তানি, চ্যালেঞ্জের মধ্যেই সম্ভাবনা

By বিশেষ প্রতিনিধি :

4 Min Read

২০২৪ সালে জাপানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে মাত্র ১.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা দেশটির মোট আমদানির ৫ শতাংশের সামান্য বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান যেমন বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ, তেমনি জাপানের বিশাল বাজারে প্রবৃদ্ধির বড় সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দেয়।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর জাপান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ২২.৮৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করে। এর মধ্যে নিট পোশাক আমদানির পরিমাণ ছিল ১১.৮৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে বাংলাদেশের অংশ ৬৩৩ মিলিয়ন ডলার বা মোট নিট পোশাকের ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। অন্যদিকে, ওভেন পোশাক আমদানি হয়েছে ১০.৯৯ বিলিয়ন ডলারের, এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে ৬২৩ মিলিয়ন ডলার, যা ৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানির বিশাল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো হয়নি। জাপান একটি মান-সচেতন ও ফ্যাশনপ্রবণ বাজার, যেখানে উচ্চমূল্যের পোশাক বিক্রির সুযোগ অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হলে জাপানের মতো অপ্রচলিত বাজারে প্রবেশ জরুরি, যা নতুন প্রবৃদ্ধির দ্বার উন্মোচন করতে পারে।

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রধান দুটি বাজার হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে দেশের প্রায় ২০ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৫০ শতাংশ পোশাক রপ্তানি হয়। বাকি ৩০ শতাংশ যায় বিভিন্ন অপ্রচলিত বাজারে, যার মধ্যে জাপান অন্যতম।

গত জুনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন গন্তব্যগুলোতে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। বিশেষ করে জাপান ও ভারতের বাজারে প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত ১১ মাসে অপ্রচলিত বাজারে মোট ৬০৪ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি।

এই সময়ে অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে শীর্ষে ছিল জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া। এর মধ্যে জাপান ও ভারতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ১০ ও ১৭ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ, আর রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবৃদ্ধি ছিল তুলনামূলক কম।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপান সবচেয়ে বড় গন্তব্য। দেশটিতে ১১২ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি।

অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি হয়েছে ৭৬ কোটি ডলারের, মাত্র ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাশিয়ায় রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৩১ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় সাড়ে ৯ শতাংশ কম। ভারতে রপ্তানির প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি হলেও সম্প্রতি দেশটির নতুন নীতির কারণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ভারতে ৬১ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।

- Advertisement -

অথচ গত মাসে ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। ফলে এখন শুধু নব সেবা ও কলকাতা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করেই রপ্তানি সম্ভব।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, আগে স্থলবন্দর দিয়ে সাত দিনের মধ্যে পণ্য পাঠানো যেত। এখন সমুদ্রপথে ১৫ থেকে ২১ দিন সময় লাগছে, ফলে ভারতীয় আমদানিকারকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। সব মিলিয়ে জাপান ও ভারতের বাজারে পোশাক রপ্তানির ঊর্ধ্বগতি আশাব্যঞ্জক হলেও ভারতের নতুন নীতি ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে অনিশ্চিত করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানে বাংলাদেশের রপ্তানির বর্তমান সীমিত অংশ একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি মানসম্পন্ন ও বৈচিত্র্যময় পণ্যের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে প্রবেশের সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *