জুলাই সনদ খসড়াকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিপজ্জনক’ বলছে জামায়াতে ইসলামী

2 Min Read
সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, ফাইল ছবি।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই সনদের খসড়াকে ‘অসম্পূর্ণ’ এবং কিছু অংশকে ‘বিপজ্জনক’ বলে মন্তব্য করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, খসড়াটি আপাতত একটি নমুনা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও সেটিকে যদি চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়, তাহলে তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দ্বিতীয় ধাপের সংলাপের ২১তম দিনের বিরতিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তাহের জানান, জামায়াত নিজস্ব প্রস্তাবিত খসড়া তৈরি করে কমিশনের কাছে জমা দেবে। তিনি বলেন, সংলাপে যেসব বিষয়ে আমরা একমত হচ্ছি, সেগুলো বাস্তবায়নের আগে অবশ্যই আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এই সনদ বাস্তবায়নের দুটি পথ থাকতে হবে—এক, অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী আইনি কাঠামো তৈরি করে পরে সংসদের অনুমোদন নেওয়া; দুই, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের চূড়ান্ত মতামত গ্রহণ করা।

তাহের সতর্ক করে বলেন, এই আইনি ভিত্তি ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন নিয়ে সংলাপে যে আলোচনা হয়েছে, তা তুলে ধরে তিনি জানান, পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব এসেছে, যাতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার (বিরোধী দলের), এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি থাকবেন। এই কমিটি ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করবে।

বহুল আলোচিত ‘জুলাই সনদ ২০২৫’-এর খসড়ায় কী আছে

যদি ঐকমত্য না হয়, তখন প্রাথমিকভাবে সর্বসম্মতি, পরে ভোট এবং প্রয়োজনে র‍্যাংক চয়েস ভোটিং পদ্ধতিতে সিদ্ধান্ত হবে। এই প্রক্রিয়ায় আরও দুজন বিচারপতি (একজন সুপ্রিম কোর্ট ও একজন হাইকোর্ট থেকে) যুক্ত থাকবেন, যাতে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হয় এবং কোনো পক্ষ এককভাবে সিদ্ধান্তগ্রহণে প্রভাব ফেলতে না পারে।

তাহের বলেন, বিচারপতিদের যুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো—তৃতীয় কোনো পক্ষ যেন একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে না পারে। আমরা আশা করি, তাঁরা নিরপেক্ষ থাকবেন এবং হর্স ট্রেডিংয়ের ঝুঁকি কমবে।

সংসদে সনদ পাঠানোর বিষয়ে বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি চায় যদি ঐকমত্য না হয়, তাহলে বিষয়টি সংসদে পাঠানো হোক। তবে জামায়াতসহ বেশিরভাগ দল মনে করে, সংলাপে ৩০টির বেশি দলের অংশগ্রহণ থাকলেও সংসদে দল মাত্র ৫–৬টি; তাই এখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

- Advertisement -

আলোচনা ছাড়া জুলাই সনদের খসড়া প্রকাশ অনাকাঙ্ক্ষিত : এনসিপি

 

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *