জেন-জি প্রজন্মের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি কার্কির

2 Min Read
সুশীলা কার্কি, ছবি - তেহেলকা।

নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি ঘোষণা করেছেন, তিনি ছয় মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকবেন না। আগামী বছরের ৫ মার্চ নির্ধারিত নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের কাছেই তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

গত শুক্রবার শপথ নেওয়ার পর রোববার দেওয়া প্রথম ভাষণে কার্কি বলেন, “এই দায়িত্ব নেওয়ার কোনো ব্যক্তিগত ইচ্ছা আমার ছিল না। রাজপথে তরুণদের তীব্র প্রতিবাদের কারণে আমাকে এই পদ গ্রহণে বাধ্য হতে হয়েছে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া তরুণদের আন্দোলন ধীরে ধীরে দুর্নীতিবিরোধী সহিংস বিক্ষোভে রূপ নেয়। এতে অন্তত ৭২ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনে আগুন দেয় এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এর জেরেই প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সরকার পতনের পর প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল, সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেল এবং আন্দোলনরত জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী করা হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি হিসেবে পরিচিত কার্কি নেপালে স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও সততার জন্য সমাদৃত।

তবে বিচারপতি থাকাকালে প্রায় ১১ মাসের মেয়াদে তার বিরুদ্ধেও একবার অভিশংসন প্রস্তাব আনা হয়েছিল। এখন তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আগুন ও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পার্লামেন্ট ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুনর্গঠন এবং দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার জেন-জি প্রজন্মকে আশ্বস্ত করা।

কার্কির ভাষায়, “জেন-জি প্রজন্ম আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তাদের দাবি— দুর্নীতির অবসান, সুশাসন ও অর্থনৈতিক সমতা— পূরণের দিকেই আমাদের কাজ এগোতে হবে।”

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *