ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সাদিক কায়েম এবং জিএস পদে একই সংগঠনের এসএম ফরহাদ এগিয়ে আছেন। বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত ঘোষিত ৬টি ভোটকেন্দ্রের আওতাধীন ১৩টি হলের ফলাফলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
কার্জন হল কেন্দ্রে অমর একুশে, ফজলুল হক ও শহীদুল্লাহ হল, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্রে শামসুন্নাহার হল, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রে জগন্নাথ, সলিমুল্লাহ ও জহুরুল হক হল, টিএসসি কেন্দ্রে রোকেয়া হল, সিনেট ভবনে বিজয় একাত্তর, মুহসিন ও স্যার এ এফ রহমান হল এবং উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান ও কবি জসীমউদ্দীন হলের ফলাফল ঘোষিত হয়েছে।
ভিপি পদে সাদিক কায়েম পেয়েছেন ১০ হাজার ৬৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৫০ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা পেয়েছেন ২ হাজার ২৬০ ভোট। জিএস পদে শিবিরের এসএম ফরহাদ পেয়েছেন ৭ হাজার ৩২৩ ভোট, যেখানে ছাত্রদলের শেখ তানভীর হামিম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৮১ ভোট এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আবু বাকের মজুমদার পেয়েছেন ১ হাজার ২৮৯ ভোট।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে রাত পৌনে ২টার দিকে কার্জন হলে ফল গণনা শুরু হয় এবং ধাপে ধাপে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
তবে ফল ঘোষণার প্রাথমিক পর্যায়েই তা প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান। রাত আড়াইটার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, “পরিকল্পিত কারচুপির এই ফলাফল দুপুরের পরপরই অনুমান করেছি। নিজেদের মতো করে সংখ্যা বসিয়ে নিন। এই পরিকল্পিত প্রহসন প্রত্যাখ্যান করলাম।”
এর আগে টিএসসিতে তিনি অভিযোগ করেন, যেসব ব্যালট বাক্সকে খালি বলা হয়েছিল, সেগুলো গণনায় পূর্ণ পাওয়া গেছে। তার অভিযোগ—“এই কারচুপির নির্বাচন হাসিনার নির্বাচনকেও ছাড়িয়ে গেছে।”
অন্যদিকে স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমাও ডাকসু নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। রাত সোয়া তিনটার পর ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “বয়কট! বয়কট! ডাকসু বর্জন করলাম।”
তিনি এই নির্বাচনকে আখ্যায়িত করেন “সম্পূর্ণ নির্লজ্জ কারচুপির নির্বাচন” হিসেবে এবং অভিযোগ করেন, “৫ আগস্টের পরে জাতিকে লজ্জা উপহার দিল ঢাবি প্রশাসন। শিবির পালিত প্রশাসন।”
