ঢাকায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল, শুল্ক ও বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের আশা

By বিশেষ প্রতিনিধি :

3 Min Read

বাণিজ্য ইস্যুতে আগামী সপ্তাহে তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল। মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডেন লিঞ্চের নেতৃত্বে এই দল বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ‘পাল্টা শুল্ক’ এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে পাল্টা শুল্কের হার কমিয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করেছে। তবে এখনও কোনো চুক্তি হয়নি। বাংলাদেশ চাইছে, পাল্টা শুল্ক কমিয়ে অন্তত ১৫ শতাংশে নামানো হোক। এ কারণে আলোচনার জন্য সময় চেয়েছে ঢাকা।

বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুল্ক আরও কিছুটা কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে। উভয় পক্ষের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হবে।  যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

সূত্র জানায়, গত আগস্ট মাসেই চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশ শুল্ক আরও কমানোর জন্য সময় চেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের যুক্তি পর্যালোচনা করছে। চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হলে দিনক্ষণ ঠিক করে সই করা হবে। বাংলাদেশের পণ্যের ওপর প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ ‘পাল্টা শুল্ক’ আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

তৃতীয় দফার আলোচনার পর ৩১ জুলাই পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামানো হয়। তবে বাংলাদেশ কিছু ছাড় দিতে হয়েছিল, যা শেষ হলে শুল্ক অন্তত ১৫ শতাংশ বা তার কম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে দেড় বিলিয়ন ডলার বা ১৫০ কোটি ডলার আমদানি বৃদ্ধি করবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনা হবে, যা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার খরচ হবে। এছাড়া প্রতিবছর সাত লাখ টন করে পাঁচ বছর মেয়াদে গম আমদানি করা হবে। সামরিক পণ্য, বেসামরিক উড়োজাহাজ যন্ত্রাংশ, জ্বালানি তেল ও ভোজ্যতেল, তুলা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বাড়ানো হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করা হবে। সব মিলিয়ে আমদানি ও বিনিয়োগ বাড়াতে শুল্ক ও অশুল্ক ছাড় দেওয়া হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বাংলাদেশ অবৈধ রপ্তানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং যৌথ তদন্তেও রাজি হবে। বাংলাদেশ আইন ও বিধিমালা অনলাইনে সহজলভ্য করবে। আমদানির ক্ষেত্রে অনুমতিপত্র বাধ্যতামূলক হবে না। ইলেকট্রনিক বিল অব লেডিং বৈধতা স্বীকার করবে। খাদ্য ও কৃষিপণ্য দ্রুত ছাড় করা হবে।

- Advertisement -

বাংলাদেশ শুল্ক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, মেধাসম্পদ, আমদানি, সেবা খাত, পরিবেশ ও শ্রম অধিকারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দিচ্ছে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের এফডিএ অনুমোদন মেনে নেওয়া হবে। এছাড়া দুগ্ধ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মাংস ও পোলট্রি, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও ডিমজাত পণ্য এবং গরু, ভেড়া ও ছাগলের দুগ্ধজাত পণ্য আমদানিতে অনুমতি দেওয়া হবে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *