তিন মাসে নির্বাচন হলে সংকট এড়ানো যেত: মির্জা ফখরুল

By নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ছবি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন হলে বর্তমান সংকট অনেকটাই এড়ানো যেত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। ব্যাংকে গেলেও মানুষ নিজের টাকা তুলতে পারছে না। আমার স্ত্রী আজ সকালে ব্যাংকে ফোন করেছিলেন টাকা তোলার জন্য, কিন্তু জানানো হয়েছে পাঁচ হাজার টাকার বেশি দেয়া যাবে না। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়বে। অথচ নির্বাচন দ্রুত হলে এসব ঝামেলা এড়ানো সম্ভব ছিল।

বুধবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে কাজী জাফর আহমদের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন নিয়ে জটিলতা না বাড়িয়ে জুলাই সনদ ও সংস্কারের কাজ শেষ করে দ্রুত ভোটের ব্যবস্থা করা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনের পথে আনতে হবে, জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে, এর বাইরে কোনো বিকল্প নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করছে। সংস্কার বা পিআর পদ্ধতির মতো বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে অপরিচিত। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, মানুষ ভোট দেবে সলিমুদ্দিনকে ভেবে, অথচ নির্বাচিত হয়ে যাবে কলিমুদ্দিন। এতে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।

ফখরুল আরও বলেন, পাঁচ আগস্টের পর আমি বলেছিলাম তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দিন। তখন আমাকে বলা হয়েছিল আমি শুধু ক্ষমতায় যেতে চাই। কিন্তু মূল বিষয়টা অন্য জায়গায়—যখনই পরিবর্তন হয়, অন্যরা তার সুযোগ নিয়ে নেয়। তাই দ্রুত নির্বাচন দরকার।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরের একটি মহল সচেতনভাবেই গণতন্ত্রপন্থী শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে বাধা দিচ্ছে। বিদেশে আওয়ামী লীগের নেতাদের হামলার ঘটনাও তুলে ধরে তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতিতে আমরা কোথায় যাব?”

সভায় ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজমুল হক নান্নুসহ অন্যরা।

মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ১৯৭০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পল্টনের জনসভায় কাজী জাফর আহমদ প্রথম স্বাধীন গণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যার কারণে তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় আইয়ুব সরকার।

সাইফুল হক বলেন, সংবিধান সংস্কার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেই হতে হবে। অধ্যাদেশ বা এসআরও জারি করে সংবিধান সংশোধন করা অগণতান্ত্রিক। যারা নির্বাচনের আগে এসব দাবি তুলছেন, তারা আসলে ভোট বিলম্বিত করতে চাইছেন।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *