পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যা নিয়ে ক্ষমা চাওয়াসহ অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সমাধান দুইবার হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রথমবার বিষয়টির নিস্পত্তি হয়, যা দুই দেশের জন্য ঐতিহাসিক দলিল। এরপর জেনারেল পারভেজ মোশাররফ বাংলাদেশে এসে খোলাখুলি বিষয়টির সমাধান করেছেন। ফলে একবার ১৯৭৪ সালে, আরেকবার ২০০২ সালের শুরুর দিকে এর নিষ্পত্তি হয়েছে।
বাংলাদেশের দৃষ্টিতে এখনো একাত্তরের গণহত্যার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ক্ষতিপূরণ, পাকিস্তানে আটকে থাকা নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, সম্পদের হিস্যা ও ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে বৈদেশিক সহায়তার পাওনা পরিশোধসহ একাধিক ইস্যু অমীমাংসিত রয়ে গেছে। বৈঠকে এসব বিষয় বাংলাদেশ পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠক ও চুক্তি :
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠক শেষে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে একটি চুক্তি এবং ৪টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
রোববার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে তৌহিদ হোসেন-ইসহাক দার শুরুতে একান্তে এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ে বৈঠক করেন।
তৌহিদ-ইসহাকের উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা বিলোপ চুক্তি হয়। এ ছাড়া দুই দেশের বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, দুই দেশের মধ্যে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতা, দুই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের সঙ্গে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (আইপিআরআই) মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক সই হয়।
কূটনৈতিক কর্মসূচি
দুই দিনের সফরে থাকা ইসহাক দার সকালে একান্ত বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। দুপুরে সরকারি মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন তিনি। বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। পরে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও তার বৈঠক করার কথা রয়েছে। শনিবার বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি এবং বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও নাগরিক সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।
গত বছর শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর পাকিস্তানের মন্ত্রিসভার তৃতীয় সদস্য হিসেবে ঢাকায় এলেন ইসহাক দার। গত জুলাইয়ে এসেছিলেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী এবং গত সপ্তাহে সফরে এসেছেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান।
শনিবার তিনি ঢাকায় পৌঁছালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। রোববার রাতে বিশেষ ফ্লাইটে তার ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
