নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসের এক কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘুষ না দিলে তিনি পেনশনের ফাইল ছাড়েন না, টাকা দিলেই হয় কাজ—না দিলে ঘুরতে হয় দিনের পর দিন।
সম্প্রতি ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। সেখানে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি টেবিলের নিচে টাকা গুনে শার্টের বুকপকেটে রাখছেন।
জানা গেছে, ওই ব্যক্তি শফিকুল ইসলাম, যিনি নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত। ঘুষ দিয়ে কাজ করা ওয়ালিদ রেজা জানান, তার মা পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নার্স হিসেবে চাকরি করতেন। পেনশনের ফাইল ছাড়াতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ নেন। ঘুষ দেওয়ার পরেই কাজ সম্পন্ন হয়। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।
ভিডিও দেখিয়ে শফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে দাবি করেন, তিনি পেনশনের কাজের সঙ্গে জড়িত নন। এরপর আর কোনো মন্তব্য না করে তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
এদিকে সিভিল সার্জন অফিসের বড়বাবু পরিচয় দিয়ে বাহারুল ইসলাম নামের এক কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশে নিরুৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “শফিকুল টাকা নিয়েছে, এটা অপরাধ। এজন্য তাকে বকাঝকা করা হয়েছে। এবারের মতো ভুলে যান, নিউজ করবেন না।” এমনকি তিনি চা খাওয়ার কথা বলে সাংবাদিককে টাকা দেওয়ারও চেষ্টা করেন।
অফিসের সাবেক এক স্টাফও নিশ্চিত করেছেন, শফিকুল নিয়মিত ঘুষ নেন। তিনি বলেন, “আমি নিজেও ভুক্তভোগী। তবে আমি আগে এই অফিসের কর্মকর্তা ছিলাম, তাই প্রকাশ্যে কিছু বলিনি। চাই, ভবিষ্যতে যেন এধরনের ঘটনা আর না ঘটে।”
রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “যে অন্যায় করবে দায় তারই নিতে হবে। এ বিষয়ে আমার কোনো ছাড় নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

