নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে জেন-জিদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও পুলিশের গুলিতে প্রাণহানি মিলিয়ে দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার মুখে পড়েছে। সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই রাস্তায় নেমে টহল জোরদার করেছে। দু’দিনের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে উত্তাল এই আন্দোলনের চাপেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টও পদ ছাড়েন। তবুও সহিংসতা থামেনি; রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ অব্যাহত রয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া জেন-জি গোষ্ঠীগুলো সহিংসতার দায় নিতে রাজি নয়। তাদের দাবি, আন্দোলনটি ‘সুবিধাবাদী অনুপ্রবেশকারীরা ছিনতাই করেছে’।
জেন-জিদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, মঙ্গলবারের বিক্ষোভ জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অবসানের স্পষ্ট দাবিতে আয়োজিত হয়েছিল। আমাদের আন্দোলন অহিংস ছিল, এখনও অহিংস এবং শান্তিপূর্ণ নাগরিক সম্পৃক্ততার নীতিতেই পরিচালিত হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মাঠে থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষার চেষ্টা করছেন। আগামী দিনগুলোতে আর কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচি নেই বলেও জানানো হয়। এমনকি প্রয়োজনে সেনা ও পুলিশকে কারফিউ বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
নেপালের সেনাবাহিনীও অভিযোগ তুলেছে, নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী ও বিভিন্ন ব্যক্তি বিক্ষোভে অনুপ্রবেশ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং ব্যক্তিগত ও সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
