বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর দলটির নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে— দলীয় প্রতীক ‘নৌকা’ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিজয়ী চেয়ারম্যানদের ভবিষ্যৎ কী হবে?
বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদ আইন ও নির্বাচন আইনে চেয়ারম্যানদের অপসারণ বা বরখাস্ত করার বিভিন্ন বিধান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা, ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হওয়া, অনুপস্থিতি, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়ানো ইত্যাদি। তবে কোথাও উল্লেখ নেই যে, কোনো দলের নিবন্ধন স্থগিত বা রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলে, সেই দলের প্রতীকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।
নির্বাচন কমিশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় চেয়ারম্যানদের পদ যাবে না। তার ভাষায়, কমিশনের কাজ গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত। এরপরের বিষয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার। আইনে এমন কোনো ধারা নেই যা বলছে, নিবন্ধন স্থগিত হলে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির পদ বাতিল হবে। অতীতে এমন ঘটনা ঘটলেও জনপ্রতিনিধিরা স্বপদে বহাল থেকেছেন।
২০১৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলের পর দলটির দুই সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন। আদালতের আদেশে দলটির নিবন্ধন বাতিল হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে তারা দায়িত্ব পালন করেন, কেননা আইন অনুযায়ী নিবন্ধন হারালে জনপ্রতিনিধিত্ব হারানোর সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান তোফায়েল আহমেদ বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক কার্যক্রমে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। তার মতে, “তারা তো চেয়ারম্যান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত। কাজ করতে পারলে সমস্যা কী? কাজ চালিয়ে যাক।”
তবে বিষয়টি নিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চয়তা এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ এটিকে ‘আইনি পর্যালোচনার’ প্রয়োজনীয় বিষয়ে বলে উল্লেখ করেছেন।
গত ১০ মে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। পরে ১২ মে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশে কোনো দল নিবন্ধন ছাড়া নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে না। তবে এ নিষেধাজ্ঞা বা নিবন্ধন স্থগিতের ফলে আগে নির্বাচিত হয়ে যাওয়া জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে সরাসরি আইনি বাধা নেই।
ফলে আপাতত আওয়ামী লীগের প্রতীকে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানরা স্বপদে বহাল থাকতে পারছেন। তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা আইনগত ব্যাখ্যা এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

