ফেনীতে সিজারের সাত মাস পর পেট থেকে বের হলো এক ফুট গজ

By ফেনী প্রতিনিধি:

2 Min Read

ফেনীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সাত মাস পর এক রোগীর পেট থেকে গজ বের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় আল-কেমী প্রাইভেট হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় অবহেলাবশত গাইনী চিকিৎসক রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই করেছিলেন।

ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াসমিন (৪০) ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর গ্রামের প্রবাসী মহিউদ্দিনের স্ত্রী। তিনি চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আল-কেমী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ডা. তাসলিমা আকতারের অধীনে সিজারিয়ান করান। অভিযোগ অনুযায়ী, তখন রোগীর পেটে গজ রেখেই সেলাই করা হয়। পরদিন ছাড়পত্র দেওয়া হলেও ফরিদা ইয়াসমিন নিয়মিত পেটের তীব্র ব্যথায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও তিনি বারবার এটিকে স্বাভাবিক সিজারের পরবর্তী জটিলতা বলে ব্যথানাশক ওষুধ দেন।

অবশেষে গত সপ্তাহে অন্য চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করানো হলে পেটে অস্বাভাবিক বস্তু থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। গত বুধবার রাতে ফেনীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আজিজ উল্ল্যাহ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ফরিদার পেট থেকে প্রায় এক কেজি ওজনের ও এক ফুট লম্বা গজ বের করেন।

ফরিদার ভাই শাহ ফয়সাল বলেন, “এ ঘটনায় শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বোন সাত মাস ধরে অমানুষিক যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। এ ঘটনায় আমরা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি, শিগগিরই থানায় এজাহারও দায়ের করব।”

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. তাসলিমা আকতারকে পাওয়া যায়নি। তবে আল-কেমী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মান্নান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *