বরিশালে মাদকের টাকার জন্য ঝগড়া, বাবা-মায়ের ধস্তাধস্তিতে তরুণের মৃত্যু

By বরিশাল ব্যুরো :

2 Min Read
ফাইল ছবি

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের মৃত্যু হয়েছে পারিবারিক সংঘর্ষে। ঘটনায় জড়িত বাবা-মা নিজেরাই থানায় হাজির হয়ে পুরো বিষয়টি জানান। নিহত তরুণের নাম হাসান গাজী (১৮)। তিনি বাকেরগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু জাফর গাজী ও নাজমা বেগম দম্পতির একমাত্র ছেলে।

মা নাজমা বেগম পুলিশকে জানান, তার স্বামী মাছের ব্যবসা করেন। সেই আয়ের টাকা থেকে হাসান নিয়মিত মাদক কিনে নিত।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকেলে নেশার টাকার জন্য বাবার সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে হাসানকে তার বাবা আঘাত করলে সে অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তারা বিষয়টি থানায় গিয়ে জানান।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাবা-মায়ের স্বীকারোক্তির পর আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। হাসানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তুহিন আক্তার বলেন, হাসানকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। তার ঘাড়ে ভারী কিছু দিয়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সম্ভবত সেই আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের দুলাভাই কাওসার হোসেন বলেন, হাসান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। নেশার টাকা না পেলে প্রায়ই শ্বশুর-শাশুড়িকে মারধর করত। একসময় তাকে জাহাজে চাকরি দিয়ে কিছুদিন আলাদা রাখা হয়েছিল, কিন্তু ফিরে এসে আবার মাদকে জড়িয়ে পড়ে।

পিতা আবু জাফর গাজী বলেন, ছেলের নেশার কারণে পরিবারে শান্তি ছিল না। মঙ্গলবারও টাকার জন্য সে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করছিল। আমি নিষেধ করতে গেলে আমাকে মারার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির মধ্যেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাসানের মাদকাসক্তি ও পরিবারে চলমান অস্থিরতা বহুদিনের। তবে তার মৃত্যু এভাবে হবে, তা কেউই কল্পনা করেননি। ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *