বাবা হারালেন পেসার এবাদত হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট :

2 Min Read

বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার এবাদত হোসেন চৌধুরী। দেশের হয়ে ক্রিকেট মাঠে দাপটের সঙ্গে লড়াই করেন তিনি। কিন্তু জীবনের এই লড়াইয়ের মুহূর্তে হেরে গেলেন তার সবচেয়ে বড় প্রেরণা বাবা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায়, সিলেটের আকাশে তখনও দিনের আলো ম্লান হয়নি। হঠাৎই অসুস্থ বোধ করলেন ৭৮ বছরের এই সাবেক বিজিবি সদস্য। তড়িঘড়ি করে ছেলে এবাদত তাকে নিয়ে রওনা দেন হাসপাতালে। মনে মনে প্রার্থনা, বাবাকে যেন দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়। কিন্তু পথেই ঘটে গেলো অনাকাঙ্ক্ষিত এক ট্র্যাজেডি। সবার প্রিয় মানুষটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সন্তানের কোলেই। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

দীর্ঘদিন ধরেই ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ছিলেন নিজাম উদ্দিন। নিয়মিত চিকিৎসায় কিছুটা স্থিতিশীল ছিলেন। পরিবার ভেবেছিল, বাবার কষ্ট ধীরে ধীরে লাঘব হচ্ছে। কিন্তু হঠাৎ করেই এভাবে চলে যাওয়া প্রস্তুত হতে পারেনি কেউই।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে এবাদত স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বললেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমি নিজেই তাকে নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। কখনও ভাবিনি, পথেই বাবা চলে যাবেন। ডাক্তাররা বললেন, তিনি আর নেই। সবাই দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।

নিজাম উদ্দিন ছিলেন সাদাসিধে জীবনযাপন করা এক প্রাক্তন সেনানুরাগী। বিজিবিতে দায়িত্ব পালন শেষে সময় কাটাতেন পরিবার আর সমাজসেবায়। সন্তানদের সততা, পরিশ্রম আর দেশপ্রেমের শিক্ষা দিয়ে গেছেন সারাটা জীবন। সেই শিক্ষা নিয়েই এবাদত আজ জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বাবার প্রেরণা ছাড়া এই পথচলা হয়তো এতটা সহজ হতো না।

আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে তার জানাজা। জানাজার পর নিজাম উদ্দিনকে শায়িত করা হবে পারিবারিক কবরস্থানে। একসঙ্গে শোকাহত হয়েছে গ্রাম, আত্মীয়-পরিজন আর ক্রিকেটপ্রেমীরা।

একজন স্নেহশীল বাবা, একজন দায়িত্বশীল প্রাক্তন সেনাসদস্য, একজন সাধারণ অথচ অসাধারণ মানুষ নিজাম উদ্দিন চৌধুরী চলে গেলেন না ফেরার দেশে। রেখে গেলেন অগণিত স্মৃতি, রেখে গেলেন অশ্রুসিক্ত সন্তানের চোখ।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *