বিএনপির ঘাঁটি বগুড়ার ৭টি আসনে কারা মনোনয়নপ্রত্যাশী

By সিয়াম সাদিক,বগুড়া ব্যুরো:

4 Min Read

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার ৭টি আসনের সকল দলের প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। জেলায় সকল দলের উঠান বৈঠক, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সভার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবার কোন পদ্ধতিতে ভোট হবে, সে ব্যাপারেও কী সিদ্ধান্ত হয় তার উপর নির্বাচনী প্রভাব পড়বে।

বগুড়া জেলার ১২টি উপজেলায় সংসদীয় এলাকা রয়েছে ৭টি। বগুড়ার ৭টি আসনের মধ্যে সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা। বগুড়ায় বিএনপির শক্ত অবস্থান। এক কথায় বিএনপির ঘাঁটি। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বাড়ি হওয়ার কারণে দলটির জনপ্রিয়তা অটুট রয়েছে। বগুড়ার ৭টি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানও শক্ত। তারা কোনো না কোনো আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৭০ সালে তৎকালীন জেলা জামায়াতের আমীর মোঃ আব্দুর রহমান ফকির জয়লাভ করেন। এরপর জামায়াতে ইসলামী জেলায় সব কটি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে।

সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া-১ সংসদীয় আসনটি ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছিল বিএনপির দখলে। কিন্তু ২০০৮ সালের পর থেকে এই আসনটি চলে যায় আওয়ামী লীগের দখলে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মরহুম আব্দুল মান্নান জয়লাভ করেন।

এবার বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড়। জেলা বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম বলতে নারাজ। কারণ ৭টি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা জানান, দলের পক্ষ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই সিদ্ধান্ত জেলা বিএনপি মেনে নেবে। জেলার ৭টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোনো প্রার্থীর কথা বলা যাবে না। একেকটি আসনে ৭ থেকে ১০ জন প্রার্থী আছেন। জেলা বিএনপি মনে করে, পিআর পদ্ধতির কথা যারা বলেন তাদের সাথে বিএনপি একমত নয়। জনগণই জানেন না পিআর কী। জনগণকে নিয়ে ভোট। তারাই যদি না বোঝেন পিআর কী, তাহলে কিভাবে হবে?

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জুলাই শহীদদের আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে “আমরা বিএনপি পরিবার” নামের একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে দলের সদস্য সচিব দুস্থ, জুলাই শহীদ পরিবারের অনুদানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। শরিক দলের সাথে সমঝোতা হলে কোনো একটি আসন ছেড়ে দিতে হতে পারে। তবে বিষয়টি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ নির্ধারণ করবেন।

বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী: জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এ.কে.এম. আহসানুল তৈয়ব জাকির, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ কাজি রফিকুল ইসলাম, জেলা ড্যাব সভাপতি ডাঃ শাহ মোঃ শাজাহান আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা তৌহিদুর রহমান টিটু, এটিএম শহিদুল্লাহ

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে: শিবগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মীর শাহে আলম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার ফিরোজ মাহমুদ ইকবাল, ডাকসু ও চাকুর সাবেক ভিপি ও জিএস এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (ধানের শীষে ভোট করতে পারেন)

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে: জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. হামিদুল হক, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী তালুকদার, সাবেক এমপি মজিদ তালুকদারের পুত্র আব্দুল মুহিত তালুকদার, সান্তাহার পৌর বিএনপি সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, আদমদীঘি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ফিরোজ মোঃ কামরুল হোসেন, বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান মুক্তা, কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক লায়ন ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ

বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম):জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, ফজলে রাব্বি তোহা

- Advertisement -

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট):ধুনট উপজেলা বিএনপি সভাপতি এ.কে.এম. তৈহিদুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ

বগুড়া-৬ (সদর): সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া

বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী): বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

- Advertisement -

বগুড়ার প্রতিটি আসনেই একাধিক প্রার্থী আছেন মনোনয়ন চাওয়ার মতো। তবে কে কোন আসন থেকে মনোনয়ন পাবেন তা নির্ভর করছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপর। প্রতিটি আসন থেকে সকলের মতামত একই—উপর মহল থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তারা তা মেনে নেবেন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *