বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুই কর্মী তাদের ব্যবহৃত ১০টি চাকা এক বেসরকারি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তাকে দেওয়ার অভিযোগে জিডি দায়ের করা হয়েছে। বিমানবন্দর থানায় জিডি করেছেন বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন।
বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘চাকা চুরি’ সংক্রান্ত ঘটনা তদন্তাধীন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি চাকার দাম ৫–১৫ হাজার ডলার, যার ফলে মোট প্রায় কোটি টাকার চাকা বেচে দেওয়া হয়েছে। এই চাকার মধ্যে ছিল ‘অ্যানসার্ভিসেবল টায়ার’, যা হ্যাঙ্গারের পাশে অকশন শেডে রাখা হয়েছিল।
জিডিতে বলা হয়েছে, বিমানের ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট সুপারভাইজার আরমান হোসেন ও স্টোর হেলপার সামসুল হক-কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের শফিকুল ইসলাম-কে চাকা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এ বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।
বিমানবন্দর থানার ওসি তাসলিমা আক্তার জানিয়েছেন, বিমান পক্ষ থেকে জিডি করা হয়েছে এবং পুলিশ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এদিকে, বিমানের শিডিউলে সম্প্রতি একাধিক যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এক মাসে অন্তত আটবার বোয়িং উড়োজাহাজে যান্ত্রিক গোলযোগ ঘটেছে, যার ফলে কিছু ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিমান মঙ্গলবার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ’ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ১ জুলাই থেকে ১৩ অগাস্ট পর্যন্ত যান্ত্রিক সমস্যার বিশদ পর্যালোচনা করবে। কমিটি প্রতিটি ফ্লাইটভিত্তিক ঘটনার রেকর্ড এবং অপারেশনাল প্রক্রিয়া যাচাই করে, গাফিলতি থাকলে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এবং পুনরাবৃত্তি রোধের সুপারিশ দেবে। কমিটির রিপোর্ট ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে হবে।
প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিমানের জনবল ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুই কর্মকর্তা বদলি করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজনের পরিবর্তন করা হবে। যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় একজন প্রকৌশলীকে ‘শাস্তিমূলক’ বদলি করা হয়েছে এবং চট্টগ্রামে অন্য একজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমান জেদ্দা, দুবাই, মদিনা, দাম্মাম ও আবুধাবিতে অতিরিক্ত চাকা মজুদ রাখার ব্যবস্থা করেছে। রাত্রিকালীন বিশেষ রক্ষণাবেক্ষণ শিফট চালু হয়েছে এবং ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। কম্পোনেন্ট সার্ভিসেস প্রোগ্রাম ও স্পেয়ার পার্টস লিস্ট পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, বিমানের প্রকৌশলীদের রি-কারেন্ট প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং নতুন শিক্ষানবিশ মেকানিক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান, যা দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

