ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লি অভিযোগ করেছে, আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী ভারতে থেকে ‘বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রম’ চালাচ্ছেন—এমন দাবি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে সেই অভিযোগ স্পষ্টভাবে নাকচ করেছে দিল্লি।
বুধবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আওয়ামী লীগের কোনো সদস্য ভারতের ভেতরে বসে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে কিংবা ভারতীয় আইনের বিরুদ্ধে কিছু করছে—এমন বিষয়ে ভারত সরকার অবগত নয়। ভারত তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেয় না।”
সম্প্রতি নয়া দিল্লি ও কলকাতায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় প্রতিষ্ঠার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতের মাটি থেকে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক যাতে ‘বাংলাদেশবিরোধী’ কার্যক্রম চালাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে কলকাতা ও দিল্লিতে গড়ে ওঠা আওয়ামী লীগের কার্যালয় দ্রুত বন্ধ করতে দিল্লিকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওই বিবৃতিকে “যথাযথ নয়” বলে মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন থেকে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এর আগে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জানায়, গুম-খুন, অগ্নিসংযোগ, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এরই মধ্যে বিবিসি বাংলা এক খবরে জানায়, কলকাতার উপকণ্ঠে একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে আওয়ামী লীগের ছোট অফিস খোলা হয়েছে, যেখানে নিয়মিত বৈঠক হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, চেয়ার-টেবিলসহ আগের ভাড়াটিয়ার জিনিসপত্র ব্যবহার করে তারা এ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট কলকাতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আরও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতসহ কয়েকজন নেতার বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
এসব খবর প্রকাশের পর বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারতের ভেতরে বৈধ বা অবৈধভাবে অবস্থান নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি অবমাননা।” এমন কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্ক ও আস্থার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মন্তব্য করে ঢাকা। ভারতের পক্ষ থেকে জবাবে মুখপাত্র জয়সওয়াল বলেন, “বাংলাদেশে দ্রুত অবাধ, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক—এ প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করছে ভারত, যাতে জনগণের ম্যান্ডেট প্রতিফলিত হয়।”
