ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিয়ে নারীকে টেনে নেয়া, ধরা খেলো ছিনতাইচক্রের তিন সদস্য

By নিজস্ব প্রতিবেদক :

3 Min Read

প্রায় পাঁচ মাস আগে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে ভয়াবহ এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। চলন্ত প্রাইভেট কার থেকে এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ টেনে নেওয়ার সময় ব্যাগের সঙ্গে তাঁর হাত আটকে গেলে গাড়িটি তাঁকেও টেনে নিয়ে যায় কিছুদূর। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। অবশেষে ধারাবাহিক অভিযানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, চক্রটির প্রধান রাজীব মাতুব্বর (৩৫)। গত ১৯ সেপ্টেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় দেড় দশক ধরে ছিনতাই ও চুরির সঙ্গে জড়িত তিনি। তাঁর নামে কামরাঙ্গীরচরে চুরির মামলা রয়েছে এবং এর আগেও বংশালে দায়ের করা ছিনতাই মামলায় তিন বছর কারাভোগ করেছেন। রাজীবের সহযোগী ইউসুব মিয়া ওরফে ইউসুফ এবং রবিউলও এই চক্রে সক্রিয় ছিল। তারা সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চার দিন ভোররাতে নিজেদের গাড়ি ব্যবহার করে ছিনতাই চালাত। এ সময় গাড়ির নম্বরপ্লেট খুলে রাখা হতো অথবা নকল নম্বরপ্লেট ব্যবহার করত তারা।

ঘটনার দিন গত ২৬ এপ্রিল সকাল পৌনে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের শিক্ষিকা ফারহানা আক্তার জাহান সিদ্ধেশ্বরীর গ্রিনল্যান্ড টাওয়ারের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ একটি সাদা প্রাইভেট কার এসে থামে। মুহূর্তের মধ্যেই গাড়ি থেকে একজন তাঁর ব্যাগ টানতে থাকে। ব্যাগ ছাড়তে অস্বীকার করায় গাড়ি চলতে শুরু করলে তিনি কিছুদূর ছেঁচড়ে যান। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি।

ভুক্তভোগী ফারহানা আক্তার বলেন, পেশাগত প্রশিক্ষণে অংশ নিতে বাসা থেকে বের হয়েছিলাম। এমন ভয়াবহ কিছু ঘটবে কল্পনাও করিনি। ছিনতাই হওয়া ব্যাগে মোবাইল ফোন, টাকা, ব্যাংকের কার্ড ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ছিল। গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, ছিনতাইকারীরা ব্যাগ থেকে টাকা ও ফোন রেখে বাকিটুকু ফেলে দেয়। টাকা তারা খরচ করে ফেলে এবং মোবাইল ফোন আদালতের মাধ্যমে ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পিবিআইর তদন্তে চক্র উন্মোচন পিবিআইয়ের এসআই সুহৃদ দে জানান, রাজীব মাতুব্বর আগে গাড়িচালক ছিলেন, পরে পেশাদার ছিনতাইকারী হয়ে ওঠেন। ঘটনার দিন তিনিই গাড়ি চালাচ্ছিলেন, ইউসুফ ব্যাগ টান দেন, আর গাড়ির মালিক রবিউলও সঙ্গে ছিলেন। রবিউল মূলত গাড়ির মিস্ত্রি, তবে পরে সক্রিয়ভাবে চক্রে যুক্ত হন। তিনজনই মাদকাসক্ত এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন গুলিস্তানের পাতাল মার্কেটে বিক্রি করত।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে রবিউলকে শনাক্ত করে ৩১ জুলাই উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পরে ২৮ আগস্ট গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় থেকে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়, সেও আদালতে জবানবন্দি দেয়। দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার পর অবশেষে চক্রের হোতা রাজীবও পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *