রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক আসাদুল হক বাবু হত্যাকাণ্ডের মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১৮ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক খান মো. এরফান আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানিতে আসামি পক্ষ জামিন চেয়ে রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানালেও রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে মত দেন। উভয়পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে নাসির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন উস্কানিমূলক প্রচারণা চালান এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তার এই ভূমিকার কারণে স্থানীয় আওয়ামীপন্থী সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক কর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণে আসাদুল হক বাবু নিহত হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত আসামিদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও মামলার রহস্য উন্মোচনের জন্য নাসির উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে জুলাই আন্দোলনে যোগ দেন ২৪ বছর বয়সী আসাদুল হক বাবু। দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হলে তা বুকে ও শরীরের ডান পাশে লাগে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর, ৩০ আগস্ট নিহতের বাবা জয়নাল আবেদীন যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনকে আসামি করা হয়। নাসির উদ্দিন এ মামলায় ২২ নম্বর আসামি এবং তার ছেলে তৌহিদ আফ্রিদি ১১ নম্বর আসামি হিসেবে এজাহারে নাম আসে।

