বাংলাদেশের প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ, সাবেক আমলা ও প্রাবন্ধিক ড. আকবর আলি খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (৮ সেপ্টেম্বর)। ২০২২ সালের এই দিনে তিনি পরলোকগমন করেন।
১৯৪৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে জন্মগ্রহণ করা আকবর আলি খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। পরবর্তীতে কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতিতে এমএ ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
সরকারি চাকরিজীবনে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিগঞ্জের এসডিও হিসেবে অনন্য ভূমিকা রাখেন তিনি।
মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র, অর্থ ও খাদ্য জোগান দেন সরাসরি উদ্যোগ নিয়ে। এমনকি নিজ হাতে লিখিত আদেশ জারি করে সহায়তা নিশ্চিত করেন। স্বাধীনতার পক্ষে তহবিল সংগ্রহে ব্যাংকের ভল্ট থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা ট্রাকে করে আগরতলায় পাঠান। মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য সরবরাহের জন্য সরকারি গুদামঘরও খুলে দেন।
যুদ্ধকালেই পাকিস্তান সরকার তাকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে তিনি আমলাজীবনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। অর্থ সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হলেও নির্বাচন সুষ্ঠু না হওয়ার শঙ্কায় পদত্যাগ করেন।
অবসর পরবর্তী সময়ে তিনি লেখালেখি ও শিক্ষকতায় মনোনিবেশ করেন। অর্থনীতি, ইতিহাস, সমাজ ও সাহিত্য নিয়ে তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৭টি। এর মধ্যে পরার্থপরতার অর্থনীতি, ডিসকভারি অব বাংলাদেশ, আজব ও জবর আজব অর্থনীতি, অবাক বাংলাদেশ: বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি, দুর্ভাবনা ও ভাবনা: রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে, বাংলায় ইসলাম প্রচারে সাফল্য এবং আত্মজীবনী পুরনো সেই দিনের কথা বিশেষভাবে প্রশংসিত।
তার লেখার বৈশিষ্ট্য ছিল গভীর বিশ্লেষণ, সহজবোধ্যতা ও রসবোধ। যদিও তার কর্মজীবন ছিল বহুমাত্রিক, তবু শিক্ষকতাকেই তিনি মনে করতেন নিজের অন্তরের সবচেয়ে কাছের দায়িত্ব। বুয়েট থেকে শিক্ষকতা শুরু করে পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে পড়িয়েছেন।
আমলাজীবন শেষে আবারও শিক্ষকতায় ফিরে আসেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। অর্থনীতিবিদ, প্রশাসক, উপদেষ্টা কিংবা শিক্ষক—যে ভূমিকাতেই তিনি ছিলেন, সেখানেই রেখে গেছেন সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও প্রজ্ঞার অনন্য দৃষ্টান্ত।

