মৌলা ব্রীজ ধসে নরসিংপুর-নোয়ারাই সড়কে যান চলাচল বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

‎সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

3 Min Read

‎সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের নরসিংপুর-নোয়ারাই সড়কের মৌলা ব্রিজ ধসে পড়ায় গত ১০ দিন ধরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ২০ গ্রামবাসী। পক্ষান্তরে সুদুর বালিউরা বাজার হয়ে নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়ক ধরে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে ভুক্তভোগী মানুষজনকে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উপরোক্ত মূল সড়কটির জোড়াপানি পর্যন্ত মোটামুটি সংস্কারের পর ভোগান্তি লাঘবের আশায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। কিন্তু বিধি বাম! মাত্র মাসখানেকের মাথায় আবারও চরম ভোগান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ হলেন ওই জনপদের দূর্ভাগা মানুষজন। এতে শুধু সময়ের দীর্ঘসূত্রিতাই নয়, সেই আগের নিয়মেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। আসন্ন বর্ষার আগমনকে সামনে রেখে বিচলিত হয়ে পড়েছেন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, জরুরি রোগী এবং পথচারীসহ নিত্য চলা বিভিন্ন পেশার হাজারো জনতা। অপরদিকে চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির হতাশায় ভুগছেন বালু-পাথর খ্যাত ওই দুই উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

‎আকস্মিক ধসে পড়া ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা বিনির্মানের দাবি জানাচ্ছেন সকল পেশার লোকজন।

‎নোয়ারাই ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, ছাতক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কয়েছ আহমেদ, উপজেলা যুবদল নেতা আব্দুল করিম চন্দন ও স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা তোফায়েল খান রিপনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় ব্যবসায়িক কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফিরতে না পেরে এক সপ্তাহ ধরে ছাতক শহরে অবস্থান করছেন তারা।

‎ছাতক-দোয়ারাবাজার নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ‘ছাতকের উত্তরাঞ্চল তিন উপজেলার সংযোগস্থল এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র। মৌলা ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’

‎তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তিনি ছাতকের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ও উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলেছেন। সাময়িক যোগাযোগের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী।

‎এদিকে ছাতক-দোয়ারা ফোরাম সিলেটের সভাপতি ও দোয়ারা শিক্ষা ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মৌলা ব্রিজের ধস জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ স্থাপন এবং স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আমি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ছাতক ও নোয়ারাই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর সুরমা অঞ্চলের জনসাধারণ বহু বছর ধরে অবহেলা ও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন অসম্ভব। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।’

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মৌলা ব্রীজ ধসে নরসিংপুর-নোয়ারাই সড়কে যান চলাচল বন্ধ, জনদুর্ভোগ চরমে

‎সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

3 Min Read

‎সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের নরসিংপুর-নোয়ারাই সড়কের মৌলা ব্রিজ ধসে পড়ায় গত ১০ দিন ধরে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ২০ গ্রামবাসী। পক্ষান্তরে সুদুর বালিউরা বাজার হয়ে নোয়ারাই-বাংলাবাজার সড়ক ধরে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে ভুক্তভোগী মানুষজনকে। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উপরোক্ত মূল সড়কটির জোড়াপানি পর্যন্ত মোটামুটি সংস্কারের পর ভোগান্তি লাঘবের আশায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিল ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। কিন্তু বিধি বাম! মাত্র মাসখানেকের মাথায় আবারও চরম ভোগান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ হলেন ওই জনপদের দূর্ভাগা মানুষজন। এতে শুধু সময়ের দীর্ঘসূত্রিতাই নয়, সেই আগের নিয়মেই গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া। আসন্ন বর্ষার আগমনকে সামনে রেখে বিচলিত হয়ে পড়েছেন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, জরুরি রোগী এবং পথচারীসহ নিত্য চলা বিভিন্ন পেশার হাজারো জনতা। অপরদিকে চরম অর্থনৈতিক ক্ষতির হতাশায় ভুগছেন বালু-পাথর খ্যাত ওই দুই উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

‎আকস্মিক ধসে পড়া ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার বা বিনির্মানের দাবি জানাচ্ছেন সকল পেশার লোকজন।

‎নোয়ারাই ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, ছাতক উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কয়েছ আহমেদ, উপজেলা যুবদল নেতা আব্দুল করিম চন্দন ও স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা তোফায়েল খান রিপনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় ব্যবসায়িক কাজ শেষে রাতে বাড়ি ফিরতে না পেরে এক সপ্তাহ ধরে ছাতক শহরে অবস্থান করছেন তারা।

‎ছাতক-দোয়ারাবাজার নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ‘ছাতকের উত্তরাঞ্চল তিন উপজেলার সংযোগস্থল এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্র। মৌলা ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’

‎তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তিনি ছাতকের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ও উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলেছেন। সাময়িক যোগাযোগের জন্য অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে টেকসই সেতু নির্মাণের জন্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদী।

‎এদিকে ছাতক-দোয়ারা ফোরাম সিলেটের সভাপতি ও দোয়ারা শিক্ষা ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, ‘মৌলা ব্রিজের ধস জনজীবনে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত অস্থায়ী বেইলি ব্রিজ স্থাপন এবং স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে আমি জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ছাতক ও নোয়ারাই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার সমাধানে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর সুরমা অঞ্চলের জনসাধারণ বহু বছর ধরে অবহেলা ও উন্নয়ন বৈষম্যের শিকার। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন অসম্ভব। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।’

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *