রাজশাহীতে স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ

By সজল মাহমুদ, রাজশাহী :

2 Min Read

রাজশাহীর শহীদ নজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক শাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে অভিভাবকরা লিখিতভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অভিভাবকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন।

বিদ্যালয়টি নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত এবং এখানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করে। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক শাহাবুব আলম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের শরীরে হাত দেন। সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় ছুটির পর এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে একা পেয়ে তার মুখ চেপে ধরেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর থেকে ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

অভিভাবকদের ভাষ্যমতে, শিক্ষক শাহাবুব আলমের এমন আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। তারা জানান, তাদের সন্তানরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং মানসিকভাবে ভীত ও অসহায় বোধ করছে। শুধুমাত্র অভিযুক্ত শিক্ষকই নয়, অন্যান্য শিক্ষকদের দিক থেকেও তদারকির ঘাটতি রয়েছে বলেও অভিভাবকরা মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহাবুব আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করার কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এটি স্কুলের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে এবং আমি ছুটি নিচ্ছি।”

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি (অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার) এর কাছে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, “লিখিত অভিযোগে ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনার উল্লেখ নেই। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিভাবকদের বিষয়টি বোঝানো হয়েছে এবং তারা বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন।”

অভিভাবকরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *