রাজশাহীর চার জেলায় সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দী

By সজল মাহমুদ, রাজশাহী:

2 Min Read
ছবি : সাদিকুল ইসলাম

পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে রাজশাহী বিভাগের চার জেলায় অন্তত সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নদী ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। তবে রোববার সকাল থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও ভাঙন আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন নদীপাড়ের মানুষ।

সরকারি হিসাবে রাজশাহীতে ১,৭৩৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪,৫০০-এর বেশি, নাটোরে ৮০ এবং নওগাঁয় ২৫টি পরিবার পানিবন্দী। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর, পাকা, সদর উপজেলার নারায়ণপুর ও আলাতুলি ইউনিয়ন তলিয়ে গেছে। ইউএনও আজাহার আলীর তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত, প্রায় ১,৪০০ হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হয়েছে। ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে ১৩ মেট্রিক টন চাল ও ৭৫ বস্তা শুকনো খাবার। সদর উপজেলায়ও প্রায় ২ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে।

রাজশাহীর বাঘা, পবা, গোদাগাড়ী ও চারঘাটের বিভিন্ন গ্রামে পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা আবদুল হাই সরকারের তথ্যমতে, ১,৭৩৭ পরিবার পানিবন্দী এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৮৫ মেট্রিক টন চাল, ৪ লাখ টাকা ও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

নওগাঁয় আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধিতে মান্দা উপজেলার তালপাতিলা এলাকায় একটি বেড়িবাঁধ ভেঙে দুই গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রায় ২০০ হলেও উপজেলা প্রশাসন বলছে ২৫টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত।

নাটোরের লালপুর উপজেলায় ৮০টি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা একেএম শাহা আলম মোল্লা জানান, জেলায় বন্যা মোকাবিলায় ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, পাবনা ও জয়পুরহাটেও নদ-নদীর পানি বেড়েছে। তবে এখনো পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, পদ্মার পানি রোববার দুপুরে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে নেমেছে, যা ধীরে ধীরে কমছে।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *