রুপাইয়া, হেমা ও সুর্মী: ডাকসু নির্বাচনে পাহাড়ের মেয়েদের লড়াই

By নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read
ছবি - সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পাহাড়ের মেয়েদের অংশগ্রহণ নজর কাড়ছে। বিভিন্ন পদে প্রার্থী হয়ে তারা শুধু শিক্ষাঙ্গনে নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের পাশাপাশি পাহাড়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্স শিক্ষার্থী রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার হেমা চাকমা। আর কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী খাগড়াছড়ি সদরের সুর্মী চাকমা।

রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা

ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাসরত রুপাইয়ার বাবা শাক্য মিত্র তঞ্চঙ্গ্যা একজন ব্যবসায়ী, মা ফাহমিদা রুবাইয়া রুমা গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়। খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও রাজধানীর হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি শেষ করে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। রুপাইয়া জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নারী শিক্ষার্থী হিসেবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, হামলা ও হেনস্তার শিকার হলেও আন্দোলন থেকে পিছপা হইনি। আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজ করেছি।

হেমা চাকমা

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র চাকমা ও মিনতি চাকমার ছোট মেয়ে হেমা। বড় ভাই অমর প্রিয় চাকমা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা নেন স্থানীয় পুজগাংমুখ বনশ্রী শিশু নিকেতনে। পরে পুজগাংমুখ উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমানে তিনি স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। ডাকসু নির্বাচনে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

সুর্মী চাকমা

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুর্মী চাকমা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ‘কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়াবিষয়ক সম্পাদক’ পদে। নিজের নির্বাচনী বার্তায় তিনি লিখেছেন, ‘আমি চাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীবান্ধব হোক। এজন্য প্রতিটি অনুষদে সুলভ দামে ভালো মানের খাবার সরবরাহকারী ক্যাফেটেরিয়া, পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনসহ উন্নত কমনরুম স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি নারী-পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কমনরুম নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’

পাহাড়ের এই তরুণীরা ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে শুধু নেতৃত্বের জায়গায় নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন না, বরং বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করছেন।

- Advertisement -
newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *