স্লুইসগেট নির্মাণে ধীরগতি: ৪০০ একর জমি অনাবাদি, তিন কোটি টাকার ফসলহানির আশঙ্কা

By বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি:

2 Min Read

বরগুনার বেতাগীতে স্লুইসগেট নির্মাণে চরম ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রায় ৪০০ একর চাষযোগ্য জমি জলাবদ্ধ হয়ে অনাবাদি পড়ে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ১১ কোটি টাকার এই প্রকল্পে কাজ শুরু হয় প্রায় ৯ মাস আগে, তবে এখনো সিংহভাগ কাজই অসম্পূর্ণ। ফলে তিনটি গ্রামের শত শত কৃষক গত আউশ মৌসুমে ধান রোপণ করতে পারেননি। আমন মৌসুম নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

কেওড়াবুনিয়া, বেতাগী ও গাবুয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তিনটি শাখা খালে স্লুইসগেট ও আউটলেট নির্মাণের দায়িত্ব পায় চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’। গাবুয়া খালে বাঁধ দিয়ে কিছু কাজ শুরু হলেও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় আশপাশের বিস্তীর্ণ জমি এখনও পানির নিচে ডুবে আছে।

ভুক্তভোগী কৃষক মোশারেফ হোসেন বলেন, “এই সময়টায় মাঠজুড়ে পাকা ধানের ঘ্রাণে ভরে থাকার কথা, কিন্তু এখন সেখানে শুধু পানি আর আগাছা। স্বপ্নের জায়গায় এখন শুধু হতাশা।”

আরেক কৃষক আবদুল কাদের মোল্লা অভিযোগ করেন, “ঠিকাদারের গাফিলতির মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের। বহুবার ইউএনও কার্যালয়ে গিয়েছি, লিখিত অভিযোগও দিয়েছি—কোনো সাড়া নেই।”

জলাবদ্ধতার প্রভাবে শুধু ফসল নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীবনযাত্রার অন্যান্য দিকও। মশাবাহিত রোগ বাড়ছে, পশুখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে, যাতায়াতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে এবং স্থানীয় কৃষি যন্ত্রচালকদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আউশ মৌসুমেই প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ধানের উৎপাদন সম্ভব হতো, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। একই চিত্র যদি আমন মৌসুমেও বজায় থাকে, তবে দুই মৌসুমে ক্ষতির পরিমাণ ৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে—যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা আহমদ বলেন, “এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি জানি। বারবার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। আশাকরি দ্রুত সমাধান হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বিপুল শিকদার জানান, “ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাজে গাফিলতির প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়েছেন।”

তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি রাজু আহমেদ দেরির কারণ হিসেবে বুয়েটের পরীক্ষাগার থেকে রিপোর্ট পেতে দেরি হওয়া ও বর্ষাকালীন অসুবিধার কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে চাই।”

- Advertisement -

কৃষকদের প্রশ্ন—কবে শেষ হবে সেই ‘দ্রুততম সময়’? কারণ প্রকল্প থেমে থাকলে শুধু মাঠে নয়, মানুষের জীবনেও শুকিয়ে যাবে সম্ভাবনার ফসল।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *