হাসিনার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য রোধ করতে সতর্ক থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক :

2 Min Read
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ছবি।

জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা ‘গণহত্যা মামলার’ রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে হবে। রোববার (১৬ নভেম্বর) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

ফখরুল বলেন, রায় ঘোষণার আগের দিন দেশজুড়ে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তার অভিযোগ, একটি মহল পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেকোনো নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পটভূমি নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের রাজনীতি এখন বিভ্রান্তিকর ও অস্বাভাবিক পরিবেশের মধ্যে রয়েছে। এমন সব উপাদান দৃশ্যমান হচ্ছে, যা দেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি। ফখরুলের দাবি, এ পরিস্থিতি দেশের জন্য ‘জটিল সংকট’ তৈরি করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, এ সরকার রাজনৈতিক কাঠামোকে নতুন পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তা জনমানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রে উত্তরণের একমাত্র উপায় নির্বাচন। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও এখন আশা করা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তার অভিযোগ, কিছু গোষ্ঠী বিভিন্ন দাবি তুলে নির্বাচন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে, অথচ জনগণ এখন একটি নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশায় আছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অর্থনীতি কঠিন অবস্থায় রয়েছে, নির্বাচিত সরকার না থাকলে এটি আরও অবনতির দিকে যাবে। আইনশৃঙ্খলাও একইভাবে ঝুঁকির মুখে।

গণহত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে তিনি দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, দেশের তরুণদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা যেন নষ্ট না হয়।

সভায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মওলানা ভাসানীর আদর্শ অনুসরণ করেই ঐক্য ও গণতন্ত্রের পথ সুদৃঢ় করা সম্ভব।

- Advertisement -

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

এতে আরও বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলামসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *