২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের ফলাফলে দেখা গেছে, পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিভিন্ন বোর্ডের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, ইংরেজি ও গণিতের প্রশ্নের জটিলতা, উচ্চতর গণিত ও আইসিটি বিষয়ক কঠিন প্রশ্নের কারণে পরীক্ষার্থীর বড় অংশ এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। তবে ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।
শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২০২টি, যা গত বছরের ১,৩৮৮টির তুলনায় প্রায় ৮৬ শতাংশ কম। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৯ হাজার ৯৭। এর মধ্যে ছাত্রীদের সংখ্যা ছাত্রীদের শিক্ষার মান বৃদ্ধির প্রতিফলন দেখাচ্ছে, কারণ মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর চেয়ে ৫,০০০-এর বেশি ছাত্রী।
এ বছর ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন। পাসের হার সব বোর্ড মিলিয়ে ৫৮.৮৩ শতাংশ।
এইচএসসি ফল প্রকাশ, কমেছে গড় পাসের হার
ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬৪.৬২%, রাজশাহী ৫৯.৪০%, কুমিল্লা ৪৮.৮৬%, যশোর ৫০.২০%, চট্টগ্রাম ৫২.৫৭%, বরিশাল ৬২.৫৭%, সিলেট ৫১.৮৬%, দিনাজপুর ৫৭.৪৯%, ময়মনসিংহ ৫১.৫৪%, মাদরাসা বোর্ড ৭৫.৬১% এবং কারিগরি বোর্ড ৬২.৯৭%।
ছাত্ররা উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩,৩৩,৮৬৪ জন, পাসের হার ৫৪.৬০%, এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩২,০৫৩ জন। ছাত্রীদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩,৯৩,৯৬, পাসের হার ৬২.৯৭%, এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৭,০৪৪ জন। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান সংখ্যা কমে ২০২টি, যা গত বছরের ১,৩৮৮টির তুলনায় অনেক কম।
শিক্ষাব্যবস্থা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর একটি পর্যায়ে রয়েছে। ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা কঠোর প্রস্তুতির মাধ্যমে প্রতিকূলতার মধ্যেও ভালো ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাঠ্যক্রমের মান উন্নয়ন, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল শিক্ষার সম্প্রসারণ শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অভিভাবক ও শিক্ষকেরা প্রত্যাশা করছেন, এই ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থাকে গঠনমূলক সমালোচনা ও পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ দিয়েছে, যা আগামী বছর শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করবে। ফলে সামগ্রিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থা ধস সত্ত্বেও পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
