একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ভোটের সিল উদ্ধারের ঘটনা এবং বিভিন্ন এলাকায় বোরকা ও নেকাব প্রস্তুতের তথ্য আসন্ন নির্বাচনে জাল ভোটের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরে ভোটের কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি ছয়টি অবৈধ সিল উদ্ধারের ঘটনায় একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার নির্দেশেই সিলগুলো তৈরি করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে হোয়াটসঅ্যাপ অর্ডার, জব্দ আলামত এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানায় বিএনপি।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করে জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরকা ও নেকাব প্রস্তুতের তথ্যও তাদের কাছে রয়েছে। এ ছাড়া আগেও ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, নারী ভোটারদের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নারী কক্ষে পর্যাপ্ত নারী পোলিং অফিসার ও নারী পোলিং এজেন্ট নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটগ্রহণের সময় আইন অনুযায়ী মুখমণ্ডল উন্মুক্ত রেখে পরিচয় যাচাই করতে হবে।
তিনি দাবি করেন, রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় একটি বাড়ি থেকে ১৫২টি ক্রিকেট স্ট্যাম্প উদ্ধারের ঘটনাও সহিংসতার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা)’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান বাস্তবে অস্তিত্বহীন হলেও সবচেয়ে বেশি ১০ হাজারের বেশি দেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, রোববার ও সোমবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের মোট ১৪টি জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। এসব জনসভায় সংশ্লিষ্ট আসনের বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।
বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা জরুরি, আর সে জন্য নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
