সাতক্ষীরায় কম্পিউটার সহায়ক ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

2 Min Read

সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর গাজী ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে জাল টেন্ডার ও অসাধু উপায়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ, বিলাসবহুল বাড়ি, মাছের ঘের ও নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করায় তার আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।যদিও বর্তমান চুয়াডাঙ্গা কর্মরত আছেন তিনি।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে দৈনিক ৪০০ টাকা মজুরিতে ইমরান হোসেন সাতক্ষীরা জনস্বাস্থ্য অফিসে চাকরি শুরু করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে তার আর্থিক সক্ষমতা। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কিছু ঠিকাদার ও অফিসের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি ভূয়া টেন্ডার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এসব অর্থেই খুলনার দিঘলিয়া এলাকায় গড়ে তুলেছেন প্রাসাদসম বাড়ি, ৮০ বিঘা জমি ও ৬০ ও ৭০ বিঘার দুটি মাছের ঘের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনস্বাস্থ্য অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, ইমরান অফিসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম করে আসছেন। জাল কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করেন নিয়মিত। এসব অর্থের একটা বড় অংশ অফিসের ভেতরে ভাগাভাগি হয়।

আরেক ঠিকাদার বলেন, ইমরান জনস্বাস্থ্য প্রকল্পের কাজ নিজের লোকজন দিয়ে করতেন। এখনো সাতক্ষীরার বেশ কয়েকটি প্রকল্প ‘কাজল’ নামে এক কথিত ঠিকাদারের নামে পরিচালিত হচ্ছে, যাকে ইমরানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে চেনেন স্থানীয়রা।

চাকরিতে যোগদানের আগে ইমরানের ছিল না উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ। তবে বর্তমানে তার ব্যবহারে রয়েছে চারটি মোটরসাইকেল, একাধিক জমি, বাড়ি এবং নিয়মিত বিদেশ সফরের নজির। স্থানীয়রা বলছেন, একজন অস্থায়ী সরকারি কর্মচারীর পক্ষে এত সম্পদ অর্জন অসম্ভব, যা পরিষ্কারভাবে দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাজী ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হেয় করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে চাকরি করি, এত সম্পদ থাকলে চাকরি করতাম না। বিদেশ সফরের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, শুধু একবার চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলাম। ‘কাজল’ নামে কথিত ঠিকাদারের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, কাজলকে চিনি ঠিকই, তবে তিনি এখন মোটরসাইকেল ভাড়া চালান বলে শুনেছি।

ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত চেয়ে স্থানীয়রা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *