পরিক্ষা পেছানোর দাবিতে রাজশাহীতে শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও

সজল মাহমুদ, রাজশাহী :

2 Min Read

এইচএসসি পরীক্ষা অন্তত দুই মাস পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও ও বিক্ষোভ করেছে একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে রাজশাহী নগরীর উপশহর এলাকায় অবস্থিত শিক্ষা বোর্ড ভবনের সামনে জড়ো হয়ে অবস্থান নেয় তারা। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মূল ফটকের তালা খুলে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ফটকটি তালাবদ্ধ করে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিক্ষার্থীরা মুখে মাস্ক ও রুমাল বেঁধে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে অবস্থান নেয়। প্রথমে তারা শান্তিপূর্ণভাবে স্লোগান দিতে থাকে, পরে ধীরে ধীরে উত্তেজনা বাড়ে। নামাজের সময় হলে মুসল্লিরা বাইরে থেকে প্রবেশ করতে না পারায় পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে তারা শিক্ষার্থীদের গেটের বাইরে বের করে দেন। তবে কিছুক্ষণ পর আবারও শিক্ষার্থীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে এবং পুনরায় অবস্থান নেয়।

শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল এসময় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ারুল হক প্রদানের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিটব্যাপী বৈঠক করে। বৈঠক শেষে শিক্ষার্থীরা জানান, পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে তাদের দাবি চেয়ারম্যান আন্তঃবোর্ড সমন্বয় কমিটির কাছে তুলে ধরবেন এবং আগামী ১৯ জুনের মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের জানান, সম্প্রতি দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। এর মধ্যে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। তারা বলছেন, শুধু রাজশাহী নয়, দেশের বিভিন্ন জেলাতেও একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। অন্তত দুই মাস সময় পেলে তারা সিলেবাসের প্রস্তুতি শেষ করতে পারবেন এবং স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও কিছুটা নিরাপদ থাকবেন বলে মত দেন।

এদিকে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা বোর্ড ভবনের আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না ঘটে, সেজন্য সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থাও নেয় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষা বোর্ড এলাকা ত্যাগ করে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ১৯ জুনের সিদ্ধান্ত তাদের প্রত্যাশার বাইরে হলে তারা আবারও কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছর সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৬ জুন থেকে।

 

newsnextbd20
Share This Article
Leave a Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *