বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে খুলনা বিভাগের পাঁচ জেলার সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় ৪৬ জন সাংবাদিক আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় যশোর কালেক্টরেট ভবনের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহায়তার চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের (প্রশাসন ও অর্থ) উপপরিচালক এবিএম রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. রেজাউল করিম, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, লোকসমাজ পত্রিকার সম্পাদক শান্তনু ইসলাম সুমিত, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সেক্রেটারি আহসান কবির, বিএফইউজের সাবেক সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব নুর ইসলাম এবং খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মো. দিদারুল আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট সবসময় সাংবাদিকদের পাশে আছে। অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত সাংবাদিকরা ভবিষ্যতেও এই সহায়তা পেয়ে আসবেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম ফরহাদ।
দায়িত্বশীল নাগরিক সম্মাননায় শহিদ জয়
চেক বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে আরেকটি ভিন্নধর্মী আয়োজন হয়। খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সড়কের পাশে থাকা মাইলপোস্ট, ট্রাফিক সিগন্যাল ও সড়ক নির্দেশক চিহ্ন নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার মাধ্যমে সামাজিক দায়িত্ব পালনে বিশেষভাবে আলোচনায় আসেন সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি ও প্রেসক্লাব যশোরের কার্যনির্বাহী সদস্য শহিদ জয়।
তার এই ব্যতিক্রমী সামাজিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে যশোর সদরের মুক্তেশ্বরী স্টার ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে “দায়িত্বশীল নাগরিক সম্মাননা স্মারক” প্রদান করা হয়। সম্মাননা ক্রেস্টটি তার হাতে তুলে দেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম।
সম্মাননা প্রদানের আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে শহিদ জয়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে নির্মিত চার মিনিটের একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মুক্তেশ্বরী স্টার ক্লাবের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি এস এম ফরহাদ।
শহিদ জয় দীর্ঘদিন ধরে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় সড়কের নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার অংশ হিসেবে মাইলপোস্ট, রোড সাইন ও সিগন্যাল পোস্ট নিয়মিত পরিষ্কার করে আসছেন। তার এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং অনেককে অনুপ্রাণিত করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তাকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সম্মাননা দেওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
