বাংলাদেশ জাসদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিনে জুলাই সনদ সংক্রান্ত গণভোট আয়োজনকে ‘গোঁজামিল’ ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে। দলটি মনে করছে, সংবিধান সংস্কারের জন্য জাতীয় সংসদে আলোচনার আগে গণভোটের কোনো প্রয়োজন নেই।
বৃহস্পতিবার জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তারা বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় যে বিষয়গুলোতে সব দল একমত হয়েছে, সেগুলোই জাতীয় সনদ। এর বাইরে কোনো বিষয় সরকার যদি চাপিয়ে দিতে চায়, তা অনৈক্যকে অমীমাংসেয় করে তুলবে। সংবিধান সংস্কারের জন্য জাতীয় সংসদে আলোচনার আগে গণভোট অপ্রয়োজনীয়। তবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সর্বসম্মত প্রস্তাবগুলোতে গণভোট নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু এ গণভোট দ্বারা সংবিধান পরিবর্তন করা যাবে না।
বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এদিন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে সই করেছেন। তবে জাসদের দাবি, সংবিধান বিদ্যমান অবস্থায় রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করা সংবিধানসম্মত নয়। তারা বলেন, প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভোট জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একসঙ্গে হতে পারে। তবে জাতীয় সংসদকে নতুন নামে অভিহিত করা এবং ‘দ্বৈত স্বত্ত্বা’ প্রদান সংবিধানবিরোধী।
জাসদ আরও বলেছে, কতিপয় দলের অবাস্তব দাবিকে জুলাই সনদ হিসেবে চালিয়ে দেওয়ায় গণতান্ত্রিক মানসিকতার অবক্ষয় ঘটছে। গণভোটের জন্য যেভাবে চারটি প্রশ্নের প্রস্তাবনা করা হয়েছে, তাতে গণভোটকে হাসি-ঠাট্টার বিষয় বানানো হয়েছে।
তারা শেষে যোগ করেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে আয়োজনকে স্বাগত জানাই, কিন্তু গোঁজামিল-ভরা গণভোটকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশন যেন আর দেরি না করে জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণা করে, জাতি সেটাই আশা করছে।
