আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করেছে, দুর্বল রাজস্ব আহরণ, আর্থিক খাতের পুঁজি ঘাটতি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের ম্যাক্রো-ফাইন্যান্সিয়াল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সংস্থাটি বলেছে, সাহসী নীতি গ্রহণ ছাড়া অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না।
আইএমএফের ১৩ দিনের পর্যালোচনা মিশন বাংলাদেশের সফর শেষে বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্রিস পাপাজর্জিও। মিশন চলাকালীন তারা বর্ধিত ঋণ সুবিধা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সুবিধা (ইএফএফ) এবং সহনশীলতা ও স্থায়িত্ব তহবিল (আরএসএফ)-এর পঞ্চম পর্যালোচনায় অংশ নেন।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যমেয়াদে শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা, যুব বেকারত্ব কমানো এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ ত্বরান্বিত করা দেশের প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা বাড়াবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। সংস্থার মতে, সরকারের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইতোমধ্যে প্রশংসনীয় অগ্রগতি হয়েছে, তবে দুর্বল কর রাজস্ব এবং ব্যাংক খাতের পুঁজি ঘাটতি এখনো বড় ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৩.৭ শতাংশ হয়েছে। গত বছরের গণ-অভ্যুত্থান ও অন্যান্য অনিশ্চয়তার কারণে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটে। মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে ৮ শতাংশে নেমেছে, তবে এখনো উচ্চ।
মিশন প্রধান ক্রিস পাপাজর্জিও বলেন, বাহ্যিক ভারসাম্য রক্ষা ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার রাজস্ব ও আর্থিক নীতিতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। মে মাসে বিনিময় হার সংস্কারের পর বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ পুনর্গঠন হতে শুরু করেছে। তবে দুর্বল কর রাজস্ব এবং ব্যাংক খাতের মূলধনের ঘাটতি এখনও বড় ঝুঁকি।
আইএমএফ কর সংস্কারের ক্ষেত্রে কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভ্যাট হার পুনর্বিবেচনা, অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি তুলে দেওয়া, এবং সর্বনিম্ন টার্নওভার করহার বৃদ্ধি। এছাড়া কর প্রশাসনকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ তদারকি উন্নত করা হলে সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং ব্যাংক খাতে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য রাজস্ব করা সম্ভব হবে। ব্যাংক খাতের দুর্বলতা মোকাবিলায় সরকারি কৌশল প্রণয়ন, মূলধন ঘাটতি পূরণ, আইনি কাঠামোতে পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সম্পদ মান পর্যালোচনা জরুরি।
আইএমএফ সতর্ক করেছে, রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে সংস্কারে বিলম্ব বা অপর্যাপ্ত পদক্ষেপ প্রবৃদ্ধিকে আরও দুর্বল করবে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে এবং সামষ্টিক স্থিতিশীলতায় নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে।
