মিয়ানমারের নোবেলজয়ী সাবেক নেতা অং সান সু চির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ছেলে কিম অ্যারিস। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা সুচির সঙ্গে পরিবার বা আইনজীবীদের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তিনি উদ্বিগ্ন, এমনকি তার মা জীবিত আছেন কি না, তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিম অ্যারিস বলেন, সু চির দীর্ঘদিনের হৃদরোগ ও হাড়-মাড়ি সম্পর্কিত সমস্যা রয়েছে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি তার মায়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখতে পারেননি। “আমার আশঙ্কা, তিনি ইতিমধ্যেই মারা গিয়ে থাকতে পারেন,” কিম অ্যারিস বলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণাধীন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে সু চিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে নির্বাচনের আগে বা পরে যদি তাকে মুক্তি দেওয়া বা গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়, তা অন্তত কিছুটা স্বস্তির বিষয় হবে, বলেন কিম।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আগে জাতীয় দিবস বা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় বন্দিদের মুক্তি দেওয়ার নজির রেখেছে। ২০১০ সালের নির্বাচনের কয়েক দিন পরও সু চিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর তিনি কারাবন্দি, ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
কিম অ্যারিস বলেন, “সু চির মর্যাদা এক সময় আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বেশি ছিল, কিন্তু রাখাইন সংকটের পর তার অবস্থান দুর্বল হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি ভুলে যাচ্ছে। দেশের নির্বাচনের এই সুযোগে সু চির মুক্তি এবং জান্তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জাপানসহ অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
সু চিকে বর্তমানে নেপিদোতে আটক রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই বছর আগে তার কাছ থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ চিঠিতে তিনি সেলের চরম তাপমাত্রা ও দুর্বল পরিবেশের কথা উল্লেখ করেছিলেন।
কিম অ্যারিসের এই উদ্বেগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, বিশেষত মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নির্বাচনের পটভূমিতে।
