পাতানো নির্বাচন আয়োজনের কোনো ষড়যন্ত্র হলে রাজপথে নেমে তা প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তা কিংবা গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের যাতায়াত নির্বাচন নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি করছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আসিফ মাহমুদ বলেন, নিরাপত্তাজনিত কোনো বিষয়ে প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। তবে তা পার্টি অফিসে গিয়ে হওয়াটা অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দলীয় কার্যালয়ে বৈঠককেও তিনি নিয়মবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন চিহ্নিত আসামি জামিনে মুক্ত অবস্থায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে—যার হাতে জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি নিহত হয়েছেন। এতে নির্বাচন নিয়ে মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ও সক্রিয় উপস্থিতি এখনও লক্ষ্য করা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, এসব বিষয় নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে এবং তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তার ভাষায়, মানুষের আস্থা ফেরাতে হলে দেখাতে হবে যে নির্বাচন সত্যিই সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সরকার পক্ষপাতহীনভাবে কাজ করবে—এমন সদিচ্ছার কথা তারা জানিয়েছেন। তবে কথার চেয়ে কাজই আস্থা ফেরানোর প্রধান মাধ্যম হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দেখা যায় একতরফা নির্বাচনের দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান বা সরকারি কর্মকর্তারা যাতায়াত করছেন, তাহলে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় এনসিপিকে রাজপথের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হতে হবে।
তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবারের নির্বাচনে যাতে জনগণ কোনোভাবেই সেই অধিকার হারায় না, সেটি নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। এজন্য শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার পথেই এগোতে চান বলেও জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, সম্প্রতি একটি দলের পার্টি অফিসে এনএসআই প্রধানের উপস্থিতির বিষয়টি তারা লক্ষ্য করেছেন। এ ধরনের ঘটনা নির্বাচন ও ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি করছে।
পঞ্চগড়-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী সারজিস আলমের হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে সম্পদের তথ্যের গরমিলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আয়কর রিটার্ন ছয় মাস আগে জমা দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে আয়ের পরিবর্তন হওয়া স্বাভাবিক। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
